বাংলা হতে সংস্কৃত অনুবাদ-(Bengali to Sanskrit)

উচ্চমাধ্যমিক বাংলা হতে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ সাজেশন্ (Bengali to Sanskrit) এছাড়াও বি.এ.পাস কোর্স ও অনার্স কোর্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ ।

সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা অনুবাদ – বাংলা টু সংস্কৃত – সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ করো – সংস্কৃত থেকে বাংলা অনুবাদ – সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ – বাংলা থেকে সংস্কৃত অনুবাদ করো class 12

বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ

উচ্চমাধ্যমিক, বি.এ.(পাস ও অনার্স) বাংলা হতে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় । এখানে পরীক্ষার সম্ভাব্য অনুবাদগুলি নিম্নে তুলে ধরা হল।

আপনি কী WBSLST সংস্কৃত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? Online Mock Test দিতে চান? তাহলে বিস্তারিত জানতে নিচের Link টিতে Click করুণ………

বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ (HS – 2019)

1. এক গ্রামে একজন সত্যবাদী মানুষ বাস করতেন । তার নাম ক্ষুদিরাম।তার কনিষ্ঠ পুত্রে নাম গদাধর।গদাধর খুব বুদ্ধিমান ও ভক্ত ছিল।সে পরে রামকৃষ্ণ নামে পরিচিত হয়। (HS SANSKRIT QUESTION PAPER 2019)

উত্তরঃ- একস্মিন্ গ্রামে একঃ সত্যবাদী নরঃ অবসৎ । তস্য নাম ক্ষুদিরামঃ অসীৎ। তস্য কনিষ্ঠঃ পুত্রস্য নাম গদাধরঃ আসীৎ । গদাধরঃ অতীব বুদ্ধিমান্ ভক্তঃ চ অসীৎ । সঃ পশ্চাৎ রামকৃষ্ণঃ নাম্না পরিচিতঃ অভবৎ ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
2. গোবিন্দমাণিক্য ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন । তার ভাই নক্ষত্র রায় । তারা একদিন সকালে গোমতী নদীতে স্নান করছিলেন । হঠাৎ তারা নদীর পাড়ে একটি বালিকাকে দেখতে পেলেন । বালিকাটি তার ভাইয়ের সাথে খেলা করছিল । (HS SANSKRIT QUESTION PAPER 2019)

উত্তরঃ- গোবিন্দমাণিক্যঃ ত্রিপুরারাজ্যস্য রাজা আসীৎ । তস্য ভ্রাতা নক্ষত্রঃ রায়ঃ আসীৎ । তৌ একদা প্রাতঃকালে গোমতীনদ্যাং স্নানম্ অকুরুতাম্ । অকস্মাৎ তৌ নদ্যাঃ তীরে একাংশ বালিকাম্ অপশ্যতাম্ । বালিকা তস্যাঃ ভ্রাতা সহ অক্রীড়ৎ ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ

বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ (HS – 2018)

3. আমাদের দেশ ভারতবর্ষ । দেশের রাজধানী দিল্লি । আমি দিল্লি যাব । বাবা আমাকে সেখানে নিয়ে যাবে । আমরা সেখানে দশ দিন থাকব । (HS SANSKRIT QUESTION PAPER 2018)

উত্তরঃ- অস্মাকং দেশঃ ভারতবর্ষঃ । দেশস্য রাজধানী দিল্লি ইতি । অহং দিল্লিং গমিষ্যামি । পিতা মাং তত্র নেষ্যতি । তত্র বয়ং দশদিনানি স্থাস্যামঃ ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
4. রামায়ণ ও মহাভারত আমাদের মহাকাব্য । বাল্মীকি রামায়ণ লিখেছেন । বেদব্যাস মহাভারত লিখেছেন । আমি রামায়ণ পড়েছি । আমি মহাভারত পড়তে চাই । (HS SANSKRIT QUESTION PAPER 2018)

উত্তরঃ- রামায়ণং মহাভারতং চ অস্মাকং মহাকাব্যম্ । বাল্মীকিঃ রামায়ণং লিখিতবান্ । বেদব্যাসঃ মহাভারতং লিখিতবান্ ।অহং রামায়ণম্ অপঠম্ । অহং মহাভারতং পঠিতুম্ ইচ্ছামি ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ

বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ (HS – 2017)

5. একটি বানর নদীর তীরে বাস করত । সে প্রতিদিন মিষ্টি ফল খেত । নদীতে একটি কুমির থাকত । বানরের সঙ্গে কুমিরের বন্ধুত্ব হল । তারা প্রতিদিন গল্প করত ।

উত্তরঃ- একঃ বানরঃ নদ্যাঃ তীরে অবসৎ । সঃ প্রতিদিনং মধুরং ফলম্ অখাদৎ । নদ্যাম্ একঃ মকরঃ অতিষ্ঠৎ । বানরেণ সহ মকরস্য বন্ধুত্বম্ অভবৎ ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
6. এক ক্ষুধার্ত শিয়াল একটি রণভূমিতে এসে পৌঁছোয় । সেখানে সে অদ্ভূত শব্দ শুনতে পেল । সে ভাবল যে, সেখান থেকে সে পালিয়ে যাবে । কিন্তু পরে সে ঠিক করল যে, সে শব্দের উৎস খুঁজবে । সে একটি ঢাক দেখতে পেল ।

উত্তরঃ- একঃ ক্ষুধার্তঃ শৃগালঃ রণভূমৌ আগতঃ । তত্র সঃ অদ্ভূতং শব্দং শ্রুতবান্ । সঃ অচিন্তয়ৎ, তস্মাৎ সঃ পলায়িষ্যতি । পরন্তু অনন্তরং স নিরূপিতবান্ যৎ, সঃ শব্দস্য উৎসঃ অন্বেষণং করিষ্যতি । সঃ একাং ঢক্কাং দৃষ্টবান্ ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ

বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ (HS – 2016)

7. রামচন্দ্র মর্যাদা পুরুষোত্তমরূপে খ্যাত । তিনি দশরথের পুত্র ছিলেন । তাঁর পত্নী সীতা জনক রাজার কন্যা ছিলেন । দুষ্ট রাবণ সীতাকে হরণ করে । রাবণ লঙ্কার রাজা ছিলেন ।

উত্তরঃ- রামচন্দ্রঃ মর্যাদাপুরুষোত্তমরূপেণ খ্যাতঃ । সঃ দশরথস্য পুত্রঃ আসীৎ । তস্য পত্নী সীতা জনকরাজ্ঞঃ কন্যা আসীৎ । দুষ্টঃ রাবণঃ সীতাম্ অহরৎ । রাবণঃ। লঙ্কায়াঃ রাজা আসীৎ ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
8. আমাদের দেশের নাম ভারতবর্ষ । এই দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রাচীন । সংস্কৃত ভাষা এই দেশের সংস্কৃতির জীবনীশক্তি । ঋগ্বেদ বিশ্বসাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ । আমি ভারতীয় হিসেবে গর্ব অনুভব করি ।

উত্তরঃ- অস্মাকং দেশস্য নাম ভারতবর্ষঃ । অহরৎ দেশস্য ঐতিহ্যং সংস্কৃতিঃ চ অতীব সমৃদ্ধা প্রাচীনা চ । সংস্কৃতভাষা অস্য দেশস্য সংস্কৃতেঃ জীবনীশক্তিঃ । ঋগ্বেদঃ বিশ্বসাহিত্যস্য প্রাচীনতমঃ গ্রন্থঃ । অহং ভারতীয়রূপেণ গর্বম্ অনুভবামি ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ

বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ (HS – 2015)

9. এক গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক বাস করত । তার দুই সন্তান ছিল । সে প্রতিদিন সকালে নিজের খেতে চাষ করতে যেত । সে অত্যন্ত সৎ ও সরল জীবনযাপন করত । এজন্য গ্রামের সকলে তাকে খুব শ্রদ্ধা করত ।

উত্তরঃ- একস্মিন্ গ্রামে একঃ দরিদ্রঃ কৃষকঃ বসতি স্ম। তস্য দ্বৌ পুত্রৌ আস্তাম্ । সঃ প্রতিদিনং প্রাতঃ স্বশস্যক্ষেত্রং গচ্ছতি স্ম । সঃ অতীব সরলস্বভাবেন জীবনযাপনং করোতি স্ম । অতঃ গ্রামে সর্বে তম্ অতীব শ্রদ্ধাং কুর্বন্তি স্ম ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
10. প্রায় একশো পঞ্চাশ বছর আগে কলকাতার সিমুলিয়া অঞ্চলে নরেন্দ্রনাথ নামে এক শিশু জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতা শ্রী বিশ্বনাথ দত্ত ও মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী । তিনি খুব সুন্দর গান গাইতে পারতেন । একদিন তাঁর গান শুনে শ্রীরামকৃষ্ণ অত্যন্ত প্রসন্ন হন।পরে নরেন্দ্রনাথ শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে আসেন এবং শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেণ ।

উত্তরঃ- প্রাক্ শতার্ধশতবর্ষং কলিকাতায়াঃ সিমুলিয়াঞ্চলে নরেন্দ্রনাথঃ ইতি শিশুঃ অজায়ত । তস্য পিতা শ্রীবিশ্বনাথঃ দত্তঃ মাতা চ ভুবনেশ্বরী দেবী । সঃ অতীব মধুরং গীতং গাতুং শক্নোতি স্ম । একদা তস্য গীতং শ্রুত্বা শ্রীরামকৃষ্ণঃ অতীব প্রসন্নঃ অভবৎ । পশ্চাৎ নরেন্দ্রনাথঃ শ্রীরামকৃষ্ণস্য সান্নিধ্যে আগতবান্ শ্রীরামকৃষ্ণস্য শিষ্যত্বগ্রহণম্ চ অকরোৎ ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
11.প্রাচীনকালে হিরণ্যধনু নামে এক নিষাদরাজ ছিলেন। তাঁর পুত্র একলব্য, দ্রোণাচার্যের কাছে অস্ত্রশিক্ষার জন্য গেল। নিষাদ জেনে দ্রোণ তাকে প্রত্যাখ্যান করলেন।

উত্তরঃ- প্রাচীনকালে হিরণ্যধনুঃ নাম একঃ নিষাদরাজঃ আসীৎ। তস্য পুত্রঃ একলব্যঃ দ্রোণাচার্যং নিকষা অস্ত্রশিক্ষার্থম্ অগচ্ছৎ। ‘নিষাদ’ ইতি জ্ঞাত্বা দ্রোণেন সঃ প্রত্যাখ্যাতবান্।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
12.সবিনয়ে মূষিকটি সিংহকে বলল—প্রভু, আমাকে রক্ষা করুন। আপনি পশুদের রাজা, আমি অতি ক্ষুদ্র জন্তু। আমার মতো জন্তুর রক্তে আপনার হাত কলঙ্কিত করা উচিত নয়। তার এই করুণ বাক্য শুনে সিংহ তাকে ছেড়ে দিল।

উত্তরঃ- সবিনয়ং মূষিকঃ সিংহম্ অবদৎ, “প্রভো! মাম্ রক্ষ। ভবান পশূনাম্ রাজা, অহম্ অতীব ক্ষুদ্রঃ জন্তুঃ। মাদৃশস্য জন্তোঃ রুধিরেণ ত্বম্ আত্মনঃ করং ন দূষয়িতুমর্হসি। তস্য ইদং করুণং বাক্যং শ্ৰুত্বা সিংহঃ তম্ অমুঞ্চৎ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
13.আকাশে সূর্য উঠছে। অন্ধকার রাত্রি অপগত হয়েছে। কূজনকারী পাখিরা প্রভাতের আগমন ঘোষণা করছে। পুষ্করিণীতে পদ্ম প্রস্ফুটিত হচ্ছে।

উত্তরঃ- গগনে সূর্যঃ উদেতি। তমসাচ্ছন্না রজনী অপগতা। কূজন্তঃ বিহগাঃ প্রভাতস্য আগমনং ঘোষয়ন্তি। পুষ্করিণ্যাং কমলানি প্রস্ফুটন্তি।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
14.এই যে পথ। বাইরে যাই। ওঃ। যমুনা বর্ষার জলধারায় পূর্ণা। হায়! আমার সমস্ত শ্রম নিষ্ফল হল। এখন আমি কী করি? যা হোক দেখি। হে যমুনে! যদি এ বালক যদুবংশে জন্মে থাকে, তবে তুমি আমায় পথ দেখাও।

উত্তরঃ- অয়ং পন্থাঃ। বহির্গচ্ছামি। অহো! যমুনা বর্ষাসু জলধারয়া পূর্ণা। মম সর্বং শ্রমং নিষ্ফলং জাতম্। অধুনা অহং কিং করিষ্যামি? অস্তু পক্ষ্যামি তাবৎ। হে যমুনে যদি অয়ং বালকঃ যদুবংশজঃ তর্হি মার্গম্ দর্শয়।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
15.একটি সুন্দর বাগান। বাগানে সুন্দর সুন্দর গাছ ও লতা। গাছ ও লতায় সুন্দর সুন্দর ফুল। সেখানে ভ্রমরের মধুর গুঞ্জন। কোকিলের কুজনে বসন্ত সেখানে নিত্য বিরাজিত।

উত্তরঃ- একং সুন্দরম্ উদ্যানম্। উদ্যানে সুন্দরাঃ বৃক্ষাঃ লতাশ্চ। বৃক্ষেষু লতাসু চ সুন্দরাণি পুষ্পাণি। তত্র ভ্রমরাণাং মধুরং গুঞ্জনম্ কোকিলানাং কূজনেন বসন্তঃ তত্র চিরং রাজতে।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
16.দিন শেষ হয়ে এলে আকাশে চাঁদ উঠল তার উজ্জ্বল কিরণ ছড়িয়ে। তুষারে আবৃত পাহাড়ের পাদদেশে একটি সুন্দর হ্রদ ছিল; তার জলে চাঁদের কিরণসমূহের ছায়া পড়েছিল। সে ছিল এক দারুণ দৃশ্য।

উত্তরঃ- দিবাবসানে আকাশে চন্দ্ৰঃ তস্য উজ্জ্বলং কিরণং বিকীর্য উদেতি। তুষারেণ আবৃতস্য পাহাড়স্য পাদদেশে একঃ সুন্দর হ্রদঃ আসীৎ। তস্য জলে চন্দ্রস্য কিরণানাং ছায়া পততি স্ম অপতৎ। তৎ অতীব সুন্দরং দৃশ্যম্ আসীৎ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
17.বাগানে বেড়াতে বেড়াতে রাজা ভোজ একদিন এক ব্রাহ্মণকে দেখলেন, যে তার সামনে এসে চোখ বন্ধ করে ফেলল। রাজা জিজ্ঞেস করলেন- সে কেন এমন করল? ব্রাহ্মণের উত্তর – রাজা, আপনি কখনও কাউকে কিছু দান করেন না। আমি কৃপণের মুখদর্শন করতে চাই না।

উত্তরঃ- উদ্যানে ভ্রাম্যন্ রাজা ভোজঃ একদা একং ব্রাহ্মণং অপশ্যৎ, যঃ তস্য সমীপম্ আগত্য চক্ষুদ্বয়ং নির্মীলিতবান্। রাজা জিজ্ঞাসিতবান্, “সঃ কখম্ ইদৃশম্ কার্যম্ অকরোৎ। ব্রাহ্মণস্য উত্তরম্, ভো রাজন্। ভবান্ কদাপি কিমপি ন যচ্ছসি। অহম্ কৃপণস্য সুখদর্শনং কর্তুম্ ন ইচ্ছামি।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
18.সেখানে স্নান করে এবং পদ্মমৃণালের আস্বাদ গ্রহণ করে আমি সরোবরের ধারে উপবেশন করলাম। তখন এক দৈত্য আমার সম্মুখে আবির্ভূত হয়ে জিজ্ঞাসা করল – কে তুমি? কোথা থেকে এসেছ? নির্ভয়ে আমি উত্তর দিলাম, আমি এক ব্রাহ্মণ। শত্রুর হাত থেকে আমি সমুদ্রে পতিত হয়েছিলাম।

উত্তরঃ- তত্র স্নাত্বা পদ্মমৃণালস্য চ আস্বাদম্ গৃহীত্বা অহম্ সরোবরস্য তীরে উপবিশামি। তদা একঃ দৈত্যঃ মম সম্মুখে আবির্ভূতা পৃষ্টবান্, “কস্ত্বম্ ? কুতঃ আগচ্ছসি? অহম নির্ভয়েন সহ উত্তরম্ দদামি, “অহম একঃ ব্রাহ্মণঃ।” শত্রোঃ হস্তাৎ অহম্ সমুদ্রে অপতম্।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
19.তারপর সেই নকুল ব্রাহ্মণকে আসতে দেখে মুখ ও পা রক্তাক্ত অবস্থায় শীঘ্র কাছে গিয়ে তার পায়ে লুটিয়ে পড়ল। তারপর সেই ব্রাহ্মণ সেই অবস্থায় তাকে দেখে এর দ্বারাই বালকটি ভক্ষিত হয়েছে – এই মনে করে নকুলটিকে মেরে ফেলল। তারপর সামনে গিয়ে ব্রাহ্মণ দেখতে পেলেন বালকটি সুস্থ এবং সাপটি মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তারপর সেই উপকারী নকুলকে দেখে চিন্তিত সেই ব্রাহ্মণ অত্যন্ত বিষণ্ন হয়ে পড়লেন।

উত্তরঃ- অথ অসৌ নকুলঃ ব্রাহ্মণম্ আয়ান্তমবলোক্য রক্তবিলিপ্তমুখ পাদঃ শীঘ্রমুপগম্য তস্য পাদয়োর্লুলোঠ। অথ সঃ ব্রাহ্মণঃ অমুষ্যাম্ অবস্থায়াম্ তম দৃষ্টা এতেন বালকঃ ভক্ষিতবান্ ইতি চিন্তয়িত্বা নকুলং ব্যাপাদিতবান্। অথ সমীপম্ গত্বা ব্রাহ্মণঃ দৃষ্টবান্ বালকঃ সুস্থঃ সৰ্পশ্চ মৃতবান্। অথ উপকারীম্ নকুলং দৃষ্ট্বা চিন্তিতঃ সন্ ব্রাহ্মণঃ অতীর বিষন্নম্ অভবৎ
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
20.প্রার্থনান্তে কর্ণ উত্থিত হইয়া পুরুষটিকে দেখিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি কি চান ? কর্ণ বলিলেন, আপনি আমার প্রতিজ্ঞার কথা জানেন। যদি সাধ্যায়ত্ত হয়, তবে যাহা চাহিবেন তাহাই দিব। কর্ণ মুহূর্তের জন্য নীরবে দণ্ডায়মান রহিলেন।

উত্তরঃ- প্রার্থনান্তে কর্ণঃ সমুত্থায় পুরুষং দৃষ্টবান্। সঃ পৃষ্টবান্ “ভবান্ কিম্ ইচ্ছতি”। কর্ণঃ অবদৎ, ভবান্ মম প্রতিজ্ঞায়াঃ কথাং জানাতি। যদি সাধ্যায়ত্তং স্যাৎ, তর্হি যথা প্রার্থয়িষ্যতি তদেব দাস্যামি। “ক্ষণমের কর্ণঃ তূষ্ণীং স্থিতঃ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
21.অযোধ্যায় দশরথ নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর ছিল তিন স্ত্রী এবং চার পুত্র। পুত্রদের মধ্যে রামচন্দ্র সব থেকে বড়ো ছিলেন। পিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য তিনি স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষণসহ বনে গিয়েছিলেন। তাঁরা যখন অযোধ্যা ত্যাগ করেন, তখন সমস্ত নগরবাসী দুঃখে অভিভূত হয়ে কেঁদেছিলেন।

উত্তরঃ- অযোধ্যায়াং দশরথঃ নাম রাজা আসীৎ। তস্য তিস্রঃ ভার্যাঃ চত্বারঃ পুত্রাশ্চ আসন্। পুত্রেষু রামচন্দ্রঃ জ্যেষ্ঠঃ আসীৎ। পিতৃসত্যপালনার্থং স ভার্যয়া সীতয়া অনুজেন লক্ষ্মণেন চ সহ বনম্ অগচ্ছৎ। যদা তে অযোধ্যাম্ অত্যজন্, তদা সর্বাঃ প্রজাঃ শোকাভিভূতাঃ ক্রন্দন্তি স্ম।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
22.দাক্ষিণাত্যে পদে মহিলারোপ্য নামে এক নগর ছিল। তার অনতিদূরে ভগবান শ্রীমহাদেবের মন্দির ছিল। সেখানে তাম্রচূড় নামে এক পরিব্রাজক বাস করত। সে নগরে ভিক্ষার গ্রহণ করে জীবনাযাত্রা নির্বাহ করত।

উত্তরঃ- দাক্ষিণাত্যে জনপদে মহিলারোপ্যং নাম নগরম্ অস্তি। তস্য নাতিদূরে মঠায়তনং ভগবতঃ শ্রীমহাদেবস্য। তত্র চ তাম্রচূড়ো নাম পরিব্রাজকঃ প্রতিবসতি স্ম। স চ নগরে ভিক্ষাটনং কৃত্বা প্রাণযাত্রাং সমাচরতি।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
23.কল্যাণকটকে ভৈরব নামে এক ব্যাধ বাস করত। সে একদিন ভ্রমণ করতে করতে বিন্ধ্যারণ্যের মধ্যে গিয়েছিল। সেখানে সে একটি হরিণকে মেরে নিয়ে যেতে যেতে ভীষণাকৃতির এক শূকরকে দেখতে পেল। তখন সে হরিণটিকে মাটিতে রেখে শুকরটিকে শর দিয়ে আঘাত করল।

উত্তরঃ- কল্যাণকটকে ভৈরবঃ নাম একঃ ব্যাধঃ প্রতিবসতি স্ম। স চৈকদা ভ্রাম্যন্ বিন্ধ্যাটবীমধ্যং গতঃ। তত্র তেন মৃগমেকম্ নিহত্য গচ্ছন্ একঃ ঘোরাকৃতিঃ শূকরঃ দৃষ্টঃ। তদা সঃ মৃগং ভূমৌ নিধায় শূকরেণ শরেণ হতঃ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
24.কোনো এক নগরে এক বিদ্বান কিন্তু দরিদ্র ব্রাহ্মণ বাস করিত। তাহার স্ত্রী এক ভয়ংকরী রমণী ছিল। স্ত্রীর ভয়ে দ্বারদেশে বৃক্ষস্থিত এক ভূত পর্যন্ত নিকটস্থ বনে পলাইয়া গিয়াছিল। ব্রাক্ষ্মণও আতঙ্কে দেশান্তরে রওনা হইলে ভূতটির সহিত তাহার পথে দেখা হইল।

উত্তরঃ- কস্মিংশ্চিৎ নগরে একঃ বিদ্বান্ পরন্তু দরিদ্রঃ ব্রাহ্মণঃ প্রতিবসতি স্ম। তস্য ভার্যা একা ভয়ংকরী রমণী আসীৎ। ভার্যায়াঃ ভয়েন দ্বারদেশ-বৃক্ষস্থিতঃ একঃ প্রেতোঽপি সন্নিহিতং বনং পলায়িতবান্। ব্রাহ্মণোঽপি আতঙ্কেন দেশান্তরম্ প্রস্থিতঃ তদা পথি তেন পেতেন সহ তস্য সাক্ষাৎকারঃ অভবৎ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
25.মহর্ষি গৌতমের তপোবনে মহাতপা নামে এক মুনি ছিলেন। সেখানে সেই মুনি কাকের দ্বারা নীয়মান এক ইঁদুর ছানাকে দেখতে পেলেন। তারপর স্বভাববশত দয়ালু সেই মুনি নীবারধানের কথা দিয়ে (তাকে) পুষ্ট করেন।

উত্তরঃ- অস্তি গৌতমস্য মহর্ষেস্তপোবনে মহাতপা নাম মুনিঃ। তত্র তেন মুনিনা কাকেন নীয়মানো মূষিকশাবকো দৃষ্টঃ। ততঃ সঃ স্বভাবদয়াত্মনা মুনিনা তেন নীবারকণৈঃ সংবর্ধিতঃ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
26.একজন সম্পন্ন চাষির এক অমিতব্যয়ী পুত্র ছিল। তাকে পিতা আলাদা থাকতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে শীঘ্রই কপর্দকহীন অবস্থায় ফিরে এল। সে অনেক দূরে থাকতেই তার পিতা তাকে দেখে মমতায় অভিভূত হয়ে পড়লেন। পুত্র তাঁকে বলল – “পিতা, আমি ঈশ্বরের কাছে এবং আপনার কাছে অপরাধ করেছি।”

উত্তরঃ- কস্যচিৎ ধনিনঃ কৃষকস্য কশ্চিৎ অমিতব্যয়ী পুত্রঃ আসীৎ। তস্য পিতা তং পৃথক্ কৃতবান্। কিন্তু সঃ শীঘ্রং কপর্দকবিহীনঃ সন্ প্রত্যাগতঃ। অতি দূরে তিষ্ঠন্তং তম অবলোক্য পিতা মমতাভিভূতঃ অভবৎ। পুত্রঃ তম্ অবদৎ/বদতি স্ম, “পিতঃ ঈশ্বরসমীপে ভবৎসকাশে চ অহম্ অপরাধং কৃতবান্।”
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
27.বিক্রমাদিত্যের রাজ্যে পুরন্দরপুরী নামে এক নগরী ছিল। সেখানে এক অতি ধনী বণিক বাস করতেন। তিনি তাঁর চার ছেলেকে ডেকে বললেন—”আমার মৃত্যুর পর তোমরা একত্রে থাকতেও পারো, নাও পারো।

উত্তরঃ- বিক্রমাদিত্যস্য রাজ্যে পুরন্দরপুরী নাম একা নগরী আসীৎ। তত্র একঃ অতীব ধনী বণিকঃ বসতি স্ম। স তস্য চতুরঃ পুত্রান্ আহ্বয় – “মম মরণাৎ পরং যূয়ম্ একত্র বসেৎ ন বা ইতি”।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
28.আজ প্রভাতে শয্যা ত্যাগ করিয়া আমি সরোবরের নিকটস্থ উদ্যানে ভ্রমণ করিতে গিয়াছিলাম। তখন সূর্য উদিত হইয়াছিল এবং তৃণের উপর শিশিরবিন্দুগুলি শোভা পাইতেছিল। মৃদুমন্দ বাতাস বহিতেছিল এবং পক্ষিগণ মধুর কূজন করিতেছিল। কিয়ৎকাল ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিয়া শীতল সমীরণে সুখ অনুভব করিলাম।

উত্তরঃ- অদ্য প্রভাতে শয্যাং পরিত্যজ্য অহম্ সরোবরস্য সমীপম্ উদ্যানে ভ্ৰমিতুম্ অগচ্ছৎ। তদা সূর্যোদয়ঃ অভবৎ। তৃণস্য উপরি চ শিশিরবিন্দবঃ শোভন্তে স্ম। মৃদুমন্দং বায়ুঃ প্রবহতি স্ম বিহগাশ্চ মধুরম্ অকূজন্। কিয়ৎকালং ইতস্ততঃ ভ্রমিত্বা শীতল সমীরণে সুখম্ অনুভূতবান্।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
29.ভারতভূমি আমাদের দেশ। এর উত্তর সীমায় আছে পর্বতরাজ হিমালয়। সেটি পৃথিবীর মানদণ্ডরূপ — এইরূপ কালিদাসের রমণীয় কল্পনা। এর মধ্যভাগে বিরাজ করছে বিন্ধ্যপর্বত এবং পশ্চিমে সহ্যপর্বত, দক্ষিণে ভারতমহাসাগর, সর্বদা তার পা দু-খানি ধুইয়ে দেয়।

উত্তরঃ- ভারতভূমিরস্মাকং দেশঃ। উত্তরসীমান্তপ্রদেশেঽস্তি তস্য নগাধিরাজো হিমালয়ঃ । সঃ পৃথিব্যাঃ মানদণ্ড ইতি কালিদাসস্য রম্যা কল্পনা। অস্যাঃ মধ্যভাগে বিরাজতে বিন্ধ্যপর্বতঃ, পশ্চিমে চ সহ্যশৈলঃ। দক্ষিণে ভারতমহাসাগরস্তস্যাচরণে নিত্যং প্রক্ষালয়তি।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
30.জন্মের পর শকুন্তলাকে মা এক গভীর বনে পরিত্যাগ করে। মহর্ষি কণ্ঠ সেখানে তাকে দেখতে পান। তিনি স্নেহবশত তাকে আশ্রমে নিয়ে যান। সেই আশ্রমে অনসূয়া ও প্রিয়ংবদা নামে দুই মুনিকন্যা ছিল। এই তিন বালিকা সমস্ত দিন ধরে মালিনী নদীর তীরে হরিণ, ময়ূর প্রভৃতি নিয়ে খেলা করত।

উত্তরঃ- জন্মনঃ পশ্চাৎ শকুন্তলাম্ তস্যাঃ মাতা গভীরে বনে অত্যজৎ। মহর্ষিঃ কণ্বঃ তত্র তাম্ অপশ্যৎ। স্নেহবশাৎ সঃ তাং আশ্রমং নীতবান্। তস্মিন্ আশ্রমে অনসূয়া প্রিয়ংবদা চ নাম্না দ্বে মুনিকন্যে আস্তাম্। ইমাঃ তিস্ৰঃ বালিকা সর্বম্ দিনম্ মালিনীনদ্যাঃ তীরে মৃগম্ ময়ূরমাদি নীত্বা সংক্রীড়ন্তে স্ম।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
31.পৃথিবীর ভাষাসমূহের মধ্যে সংস্কৃত ভাষা প্রাচীনতম। এই ভাষা ভারতীয় সভ্যতার ধারক ও বাহক। রামায়ণ ও মহাভারত নামক মহাকাব্য দুটি এই ভাষাতেই রচিত। ভারতীয় প্রধান ভাষাসমূহের জননী এই ভাষা তাই এই ভাষা অবশ্যই শিখতে হবে।

উত্তরঃ- পৃথিব্যাঃ ভাষাসমূহেষু সংস্কৃত ভাষা প্রাচীনতমা। ইয়ং ভাষা ভারতীয় সভ্যতায়াঃ ধারিকা বাহিকা চ। রামায়ণং মহাভারতজ্ঞ ইতি মহাকাব্যদ্বয়ম্ অনয়া ভাষয়া এব রচিতম্। ভারতীয় প্রধান ভাষাণাং জননী ইয়ং ভাষা। অতঃ ইয়ং ভাষা অবশ্যমেব শিক্ষণীয়া।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
32.শ্রীকৃষ্ণকে বন্ধুরূপে এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে সারথিরূপে লাভ করে অর্জুন ধন্য হয়েছিলেন। এই যুদ্ধে একসময় তিনি করুণায় অভিভূত হয়ে পড়েন। তখন যুদ্ধে যোগ দিতে তিনি অনিচ্ছুক হন।

উত্তরঃ- অর্জুনঃ শ্রীকৃষ্ণং বন্ধুভাবেন কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে চ সারথিরূপেণ প্রাপ্য ধন্যঃ অভবৎ। অস্মিন্ যুদ্ধে একস্মিকালে স করুণাভিভূতঃ অভবৎ। তদা স যোদ্ধৃং ন উৎসহতে স্ম।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
33.জন্মের পরই শকুন্তলাকে তাঁর মা ত্যাগ করেন। তিনি পরিত্যক্তা হন এক গভীর বনে। মহর্ষি কণ্ঠ সেখানে তাঁকে দেখতে পান। স্নেহবশত তিনি তাঁকে তাঁর আশ্রমে নিয়ে যান। ওই আশ্রমে অপর দুই মুনিকন্যা ছিল।

উত্তরঃ- জন্মনঃ পশ্চাৎ শকুন্তলাম্ তস্যাঃ মাতা অত্যজৎ। সা গভীরে অরণ্যে পরিত্যক্তা অভবৎ। মহর্ষিঃ কণ্বঃ তত্র তাম্ অপশ্যৎ। স্নেহবশাৎ সঃ তাং তদীয়ম্ আশ্রমং নীতবান্। তস্মিন্ আশ্রমে অপরে দ্বে মুনিকন্যে আস্তাম্।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
34.উজ্জয়িনী -তে তারাপীড় নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি তাঁর পরাক্রমে পৃথিবী জয় করেছিলেন। বিলাসবতী নামে তাঁর এক মহিষী ছিলেন। তিনি ছিলেন রাজার অন্তঃপুরিকাদের মধ্যে প্রধান। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। একদিন রাজা বিলাসবতীর গৃহে গিয়ে তাঁকে কাঁদতে দেখতে পেলেন।

উত্তরঃ- উজ্জয়িন্যাং তারাপীড়ঃ নাম একঃ নৃপঃ আসীৎ। সঃ তস্য পরাক্রমেণ পৃথিবীং জিতবান্। বিলাসবতী নাম্নী তস্য একা মহিষী অভবৎ। সা রাজঅন্তঃপুরিকানাম্ প্রধানা আসীৎ। তয়োঃ কোঽপি সন্তানঃ ন আসীৎ। একদা রাজা বিলাসবত্যাঃ গৃহে গত্বা তাম্ ক্রন্দিতুম্ অপশ্যৎ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
35.নিজের দেশের প্রতি ঐকান্তিক অনুরাগের প্রকাশই হল। স্বাদেশিকতা। নিজের দেশের ভাষায়, আহারে, আচারে, গানে বা নীতিতে ঐকান্তিক আসত্তিই স্বাদেশিকতার নিদর্শন। বিদেশি ভাষা বা নীতি বা বৈদেশিক ধর্ম বা পোশাক স্বদেশপ্রেমিকের হৃদয়ে স্থান পায় না। নিজের দেশের উন্নতিতে দেশপ্রেমিকদের মন সম্পূর্ণরূপে গর্বে উৎফুল্ল হয়। স্বদেশপ্রেমে বিগলিত যারা, প্রকৃতপক্ষে তারাই মাতৃভূমির সুকৃতিপরায়ণ বংশধর।

উত্তরঃ- স্বদেশং প্রতি ঐকান্তিকানুরাগস্য বিকাশ এব স্বাদেশকিতা। স্বদেশস্য ভাষায়াম্ আহারে বা আচারে বা গীতৌ বা নীতৌ বা ঐকান্তিকী আসক্তিরেব স্বাদেশিকতায়াঃ নিদর্শনম্। ন হি বৈদিশিকী ভাষা বা নীতিবা, বৈদেশিকো ধর্মো বা বেশো বা স্বদেশপ্রেমিকস্য হৃদয়ে পদং করোতি। স্বদেশস্য সমুন্নতাবের মনাংসি সম্যক্তয়া গর্বোৎফুল্লানি ভবন্তি দেশপ্রেমিকানাম্। স্বদেশপ্রেমবিগলিতচিত্র এব মাতৃভূমেঃ সুকৃতিনো বংশধরাঃ।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
36.সংস্কৃত ভারতীয় সংস্কৃতির মূল। সেটিই আমাদের ঐক্যবন্ধনের কারণ। ভারতবর্ষের যে ঐতিহ্য তাও কিন্তু সংস্কৃতের অধীন। সংস্কৃতই আঞ্চলিক ভাষাগুলির প্রাণস্বরূপ। সংস্কৃতেরই অমৃতরসে এই ভাষাগুলির সমৃদ্ধি ঘটেছে। সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত তীর্থে তীর্থে সংস্কৃতের উদাত্ত মন্ত্র গীত হয়। সংস্কৃত ছাড়া ভারতীয়দের গৌরবের অন্য কিছুই নেই। বিশ্বসাহিত্যের ভাণ্ডারে সংস্কৃতের সুধাভাণ্ডই অমৃতের স্বাদ বিতরণ করে।

উত্তরঃ- সংস্কৃতং ভারতীয়সংস্কৃতেমূলম্। তদস্মাকম্ ঐক্যবদ্ধস্য নিদানম্। ভারতবর্ষস্য যদৈতিহ্যং তত্ত্ব সংস্কৃতাধীনমেব। আঞ্চলিক ভাষাণামপি সংস্কৃতমেব প্রাণভূতম্। সংস্কৃতস্যৈব অমৃতরসেন এতদ্ ভাষাণাং সমৃদ্ধিঃ সম্ভবতি। আসমুদ্রহিমাচলং সংস্কৃতস্য এক এব উদাত্তো মন্ত্রস্তীর্থে তীর্থে গীয়তে। সংস্কৃতং বিনা ভারতীয়ানাং নাস্তি অন্যৎ কিমপি গৌরবাবহম্। বিশ্বসাহিত্যভাণ্ডারে সংস্কৃতস্য সুধাভান্ডং বিতনুতে অমৃতস্বাদম্।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ
37.কোনো এক রাজার অতিভক্তিপরায়ণ, অতিবিশ্বস্ত প্রতিদিনের অঙ্গসেবক একটি বানর ছিল। একদিন রাজা নিদ্রা গেলে বানরটি পাখা দিয়ে হাওয়া করার সময় একটি মাছি রাজার বুকের উপর বসছিল। পাখা দিয়ে বারবার তাড়ানো সত্ত্বেও মাছিটি বারবার সেখানে বসছিল।

উত্তরঃ- কস্যচিৎ রাজ্ঞঃ নিত্যং বানরোঽতিভক্তিপরায়ণোঽঙ্গসেবকোঽতিবিশ্বাস স্থানমভূৎ। একদা রাজ্ঞঃ নিদ্রাং গতস্য বানরে ব্যজনং নীত্বা বায়ুং বিদধতি বক্ষঃস্থলোপরি মক্ষিকা উপবিষ্টা। ব্যজনেন মুহুর্মুহুনিষিধ্যমানাপি পুনঃ পুনঃ তত্রৈব উপবিশতি।
বাংলা থেকে সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ

37.একটি কুকুর মুখে একখণ্ড মাংস নিয়ে নদীতীরের পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন সে নদীজলে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে, মনে মনে চিন্তা করল—ওই আর-একটি কুকুর মাংসখণ্ড নিয়ে যাচ্ছে। তখন সে জলে ঝাঁপ দিল।

উত্তরঃ- একঃ কুকুরঃ মাংসখণ্ডং মুখেন আদায় নদীতীরস্য পথা গচ্ছতি স্ম। তদা সঃ নদীজলে আত্মনঃ প্রতিবিম্বং দৃষ্ট্বা মনসি চিন্তিতবান্, “অয়ম্ অপরঃ কশ্চিৎ কুক্করঃ মাংসখণ্ডং নীত্বা গচ্ছতি ইতি। তদা সঃ জলে উল্লম্ফয়তি স্ম।

38.পাটলিপুত্র -এ বিন্দুসার নামে এক রাজা রাজত্ব করিতেন। তাঁহার একটি পুত্র জন্মিয়াছিল। তাঁহার নাম ছিল সুসীম। সেই সময় চম্পা নগরীতে এক ব্রাক্ষ্মণ বাস করিতেন। তাঁহার সুন্দরী দর্শনীয়া একটি কন্যা ছিল। ব্রাক্ষ্মণ সেই কন্যাকে লইয়া পাটলিপুত্রে গমন। করিলেন।

উত্তরঃ- পাটলিপুত্রে বিন্দুসারঃ নাম একঃ রাজা রাজত্বং অকরোৎ। তস্য একঃ পুত্রঃ অজায়তৎ। তস্য নাম আসীৎ সুসীমঃ। তস্মিন্ সময়ে চম্পানগৰ্য্যাম্ একঃ ব্রাহ্মণঃ প্রতিবসতি স্ম। তস্য একা সুন্দরী দর্শনীয়া কন্যা আসীৎ। ব্রাহ্মণঃ তাম্ কন্যাম্ নীত্বা পাটলিপুত্ৰং গতঃ ।

39.পুরাকালে বোধিসত্ত্ব কোশলদেশে কোনো এক ব্রাক্ষ্মণ বংশে জন্মেছিলেন। তাঁর তিনটি কন্যা ছিল। তাদের বিবাহের পূর্বেই তিনি মারা যান। পরজন্মে তিনি সোনার হাঁস হয়ে জন্মে হিমালয় প্রদেশের এক সরোবরে থাকতেন।

উত্তরঃ- পুরা বোধিসত্ত্বঃ কোশলদেশে কস্মিংশ্চিৎ দ্বিজকুলে জাতঃ। তস্য তিস্রঃ কন্যাঃ অভবন্। তাসাং বিবাহাৎ প্রাগের স পঞ্চত্বং গতঃ। পরজন্মনি স স্বর্ণহংসো ভূত্বা হিমালয়প্রদেশস্য একস্মিন্ সরসি স্থিতঃ।

40.একসময় বোধিসত্ত্ব পরবর্তী জন্মে সোনার হাঁসরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং জাতিস্মরত্বের অধিকারী হয়েছিলেন। একবার পূর্বজন্মবৃত্তান্ত স্মরণ করতে করতে বোধিসত্ত্ব পূর্বের স্ত্রী-কন্যাদের অত্যন্ত ব্যথিত মনে তাঁদের দারিদ্র্য দূর করার বাসনায় কুটিরের নিকট উপস্থিত হলেন। 

উত্তরঃ- একদা জন্মান্তরে বোধিসত্ত্বঃ সুবর্ণহংসরূপেণ সংজাতো জাতিস্মরোহভবৎ। একদা পূর্বজন্মবৃত্তান্তং স্মরন্ স সুবর্ণহংসঃ পূর্বপত্ন্যা দুহিতৃণাং চ। অতীব ব্যথিত-চিত্তে তেষাম্ দরিদ্রতাং দূরীকরণায় কুটীরং নিকষা উপস্থিতবান্।

41.দক্ষিণ সমুদ্রতীরে একজোড়া টিট্টিভ বাস করত। তারপর একদিন প্রসবকাল নিকটবর্তী হলে টিট্টিভ (তার) স্বামীকে বলল—”প্রভু। প্রসবের উপযুক্ত কোনো এক নিভৃত জায়গার সন্ধান করো।” টিট্টিভ (তখন) বলল—“প্রিয়ে। এটিই প্রসবের যোগ্য স্থান।” টিট্টিভ বলল – “এ স্থানটি সমুদ্রবেলায় ঢাকা পড়ে যায়।”

উত্তরঃ- দক্ষিণ-সমুদ্রতীরে টিট্টিভদম্পতী প্রতিবসতঃ স্ম। অথ একদা টিট্টিভ আসন্নপ্রসবা ভর্তারমাহ, “নাথ! প্রসবযোগ্যস্থানং নিভৃতম্ অন্বিষ্যতাম্।” টিট্টিভোহবদৎ “প্রিয়ে! ননু ইদমেব স্থানং প্রসূতিযোগ্যম্”। সা ব্রূতে, “সমুদ্রবেলয়া ব্যাপ্যতে স্থানমেতৎ”।

42.ভাগীরথী তীরে গৃধ্রকূট নামক পর্বতে বিশাল পাকুড়গাছ ছিল। তার কোটরে দৈবদুর্বিপাকবশত গলিত নখ ও নয়নবিশিষ্ট জরগব নামে এক শকুনি বাস করত। তারপর অনুগ্রহহেতু তার জীবনের জন্য সেই বৃক্ষে বসবাসকারী পাখিরা নিজেদের আহার থেকে কিছু কিছু তুলে দিত।

উত্তরঃ- অস্তি ভাগীরথীতীরে গৃধ্রকুটনাম্নি পর্বতে মহান্ পৰ্কটীবৃক্ষঃ। তস্য কোটরে দৈবদুর্বিপাকাদ্ গলিতনখনয়নো জরদ্গবনামা গৃধ্রঃ প্রতিবসতি স্ম। অথ কৃপয়া তজ্জীবনায় তবৃক্ষবাসিনঃ পক্ষিণঃ স্বাহারাৎ কিঞ্চিৎ কিঞ্চিদুষ্কৃত্য দদতি।

43.এক গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক বাস করত। তার দুই সন্তান ছিল। সে প্রতিদিন সকালে নিজের খেতে চাষ করতে যেত। সে অত্যন্ত সৎ ও সরল জীবনযাপন করত। এজন্য গ্রামে সকলে তাকে খুব শ্রদ্ধা করত।

উত্তরঃ- একস্মিন্ গ্রামে কশ্চিৎ দরিদ্রঃ কর্ষকঃ প্রতিবসতি স্ম। তস্য দ্বৌ-পুত্রৌ আস্তাম্। সঃ প্রতিদিনং প্রাতঃ আত্মনঃ ক্ষেত্রং কৃষিকার্যং কতুম্ অগচ্ছৎ। সঃ অতীব সরলস্বভাবেন জীবনযাপনম্ অকরোৎ। এতদর্থং গ্রামে সর্বে তম্ অতীব শ্রদ্ধাং অকুর্বন্।

44.প্রায় একশ পঞ্চাশ বছর আগে কলকাতার সিমুলিয়া অঞ্চলে নরেন্দ্রনাথ নামে এক শিশু জন্মগ্রহণ করে। তাঁর পিতা শ্রী বিশ্বনাথ দত্ত ও মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী। তিনি খুব সুন্দর গান গাইতে পারতেন। একদিন তাঁর গান শুনে শ্রীরামকৃষ্ণ অত্যন্ত প্রসন্ন হন। পরে নরেন্দ্রনাথ শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে আসেন এবং শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

উত্তরঃ- প্রাক্‌ শতার্ধশতবৰ্ষম্ কলিকাতায়াঃ সিমুলিয়া অঞ্চলে নরেন্দ্রনাথঃ নাম একঃ শিশু জায়তে স্ম। জন্মগ্রহণং করোতি স্ম। তস্য পিতা শ্রী বিশ্বনাথঃ দত্তঃ মাতা চ ভুবনেশ্বরী দেবী। সঃ অতীব মধুরং গীতং গায়তি স্ম। একদা তস্য গীতং শ্ৰুত্বা শ্রীরামকৃষ্ণঃ অতীব

45.বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী। মাঘমাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে ইহার অর্চনা করা হয়। দেবীর আরাধনা ছাত্রদের একটি হৃদয়ের উৎসব। ছাত্রগণ তাদের ভক্তিপূর্ণ অর্থ দেবীর শ্রীচরণে নিবেদনপূর্বক প্রত্যেক বৎসর বিদ্যা প্রার্থনা করে। বর্তমানকালে এই উৎসব কেবল বিদ্যালয়েই হয় না, প্রায় প্রতিগৃহেও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এমনকি বিভিন্ন পল্লীতে ছাত্রগণ মণ্ডপসজ্জা করে এই পূজা করে থাকে।

উত্তরঃ- বিদ্যায়াঃ অধিষ্ঠাত্রী দেবী সবস্বতী। মাঘমাসস্য শুক্লাপঞ্চমী তিথৌ তস্যাঃ পূজার্চনাং ভবতি। দেব্যাঃ আরাধ্যানাং ছাত্রাণাম্ হৃদয়োৎসবঃ। ছাত্রাঃ তেষাম্ ভক্তিপূর্ণং অর্ঘ্যং দেব্যাঃ শ্রীচরণে নিবেদনং কৃত্বা প্রতিবর্ষম্ বিদ্যাং প্রার্থয়ন্তে। বর্তমানে অয়ং উৎসবঃ ন কেবলং বিদ্যালয়মেব ভবতি প্রতিগৃহে অনুষ্ঠীয়ন্তে। অপি চ বিভিন্নে পল্ল্যামপি ছাত্রাঃ মণ্ডপসজ্জাং কৃত্বা ইয়ং পূজা অনুষ্ঠীয়ন্তে।

46.নিয়মানুবর্তিতা ছাত্রজীবনের প্রাণস্বরূপ। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, অনুশাসনের প্রতি আনুগত্য, ছাত্রদের অবশ্যই আচরণ করা উচিত “শ্রদ্ধাবানই জ্ঞান লাভ করে”, গীতার এই বাণী মনে রাখা উচিত। ছাত্রদের কখনও এরূপ আচরণ করা উচিত নয় যাতে পবিত্র অধ্যয়ন ব্যাহত হয়।

উত্তরঃ- ছাত্রজীবনস্য প্রাণতুল্যম্ হি নিয়মানুবর্তনম্। শিক্ষকান্ প্রতি শ্রদ্ধা, অনুশাসনেষু আনুগত্যং ছাত্রাণাম্ অবশ্যং পালনীয়ম্। “শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানম্” ইতি গীতাবচনম্ অস্মাভিঃ নূনমেব স্মরণীয়ম্। শিক্ষার্থীনাম্ কদাপি এবং কর্তব্যম্ ন কুর্য্যুঃ যেন পবিত্রাধ্যয়নং ব্যাহতং ভবেৎ।

47.কলিঙ্গদেশে শোভাবতী নাম্নী একা নগরী অস্তি। তত্র যজ্ঞসোমঃ নাম একঃ ব্রাহ্মণঃ অবসৎ। সঃ সর্ববেদজ্ঞঃ আসীৎ। সঃ দেবপূজকঃ অতিথিপরায়ণশ্চ আসীৎ। বার্ধক্যে তস্য একঃ পুত্রঃ অজায়ৎ।

উত্তরঃ-কোনো এক স্থানে চন্দ্রশেখর বাস করত। সে প্রয়োজন হেতু গ্রামে গেল। তার মা মমতা তাকে বললেন যে, বাছা কেন একাকী যাচ্ছ? দ্বিতীয় সহায়ের অনুসন্ধান করো।’ সে বলল মা চিন্তা কোরো না।

কস্মিংশ্চিদধিষ্ঠানে চন্দ্রশেখরঃ প্রতিবসতি স্ম। সঃ প্রয়োজনবশাদ্ গ্রামং অগচ্ছৎ। তস্য মাতা মমতা তম্ অবদৎ, “বৎস! কথম্ একাকী ব্রজসি? দ্বিতীয় সহায়কস্য অনুসন্ধানং কুরু। সঃ অবদৎ,” অম্ব! চিন্তাং ন কুরু।

48.অমৃত খুব মিষ্ট, সংস্কৃত তার থেকেও বেশি মিষ্ট। এটি যেহেতু দেবগণের ভোগ্য তাই একে দেবভাষা বলা হয়। যতদিন ভারতবর্ষ থাকবে, যতদিন বিন্ধ্য ও হিমালয় থাকবে এবং যতদিন গঙ্গা ও গোদাবরী নদী থাকবে, ততদিনই সংস্কৃত থাকবে।

উত্তরঃ-অমৃতং মধুরং, সম্যগ্ সংস্কৃতং হি ততোঽধিকম্। দেবভোগ্যমিয়ং ভাষা যস্মাদ্‌ ‘দেবভাষা’ ইতি কথ্যতে। যাবদ্ ভারতবর্ষম্ স্থাস্যতি, যাবদ্ বিন্ধ্যহিমাচলৌ স্থাস্যতঃ, যাবদ্ গঙ্গা চ গোদা চ, তাবদেব হি সংস্কৃতম্।

49.নীলগোলা জলের গামলায় পড়ে শিয়াল নীলবর্ণ হয়ে উঠল। নিজের বর্ণ দেখে সে চিন্তা করল, আমি এখন উত্তমবর্ণ হয়েছি। তাহলে আমি নিজের উৎকর্ষ সাধন করব না কেন?

উত্তরঃ-নীলীপূর্ণে ভাণ্ডে পতিত্বা শৃগালঃ নীলবর্ণ জাতঃ। আত্মনঃ বর্ণং দৃষ্ট্বা অচিন্তয়ৎ—অহম্ ইদানীম্ উত্তমবর্ণঃ জাতোঽ। ততঃ কথম্ আত্মনঃ উৎকর্ষং ন সাধয়ামি!

50.একদা দ্রোণ রাজা দ্রুপদকে বললেন—ওহে, আমি তোমার বন্ধু, রাজ্যের অর্ধেক দিতে চেয়েছিলে, সে প্রতিজ্ঞার কথা তোমার স্মরণে আছে কী? দ্রুপদ স্বীকার করলেন না। বললেন–দরিদ্র ব্রাক্ষ্মণকে কিছু দেওয়ার ইচ্ছে আমার নেই।

উত্তরঃ-একদা দ্রোণঃ রাজাদ্রুপদম্ অবদৎ, “অহোঃ! অহম্ তব মিত্রম্, রাজ্যস্য অর্ধং দাতুম্ ঐচ্ছঃ, তদ্ প্রতিজ্ঞাবাক্যং তব স্মরসি কিম্ ? দ্রুপদঃ স্বীকারয়তি স্ম,”ন। অবদৎ—“দরিদ্র ব্রাহ্মণায় কিঞ্চিদপি দাতুম্ মম ন ইচ্ছামি।”

51.কোনো এক বনে এক বটগাছ ছিল। সেখানে অনেক বক থাকত। সেই গাছের কোটরে এক কেউটে সাপ বসবাস করত। পাখা ওঠেনি এমন বকের ছানাগুলিকে সে সবসময় খেয়ে খেয়ে দিন কাটাত।

উত্তরঃ-কস্মিংশ্চিৎ বনে একঃ বটবৃক্ষঃ অস্তি। তত্র বহবঃ বকাঃ অতিষ্ঠৎ। তস্য কোটরে একঃ কৃষ্ণসর্পঃ প্রতিবসতি স্ম। অজ্ঞাতপক্ষনপি বিহগান্ সদৈব ভক্ষয়ন্‌ সঃ কালং নীতবান্।

52.কন্যার সঙ্গে মুনিকে দেখে তার পত্নী প্রশ্ন করলেন–ভগবন্! এই মেয়েটি কোথা থেকে এলো? তিনি বললেন—এটি মেয়ে ইঁদুর। বাজপাখির ভয়ে শরণাগত হওয়ায় কন্যারূপে তোমার বাড়ি আনলাম। তাই তুমি যত্নের সঙ্গে রক্ষা করবে।

উত্তরঃ-কন্যয়া সহ মুনিম্ দৃষ্ট্বা তস্য পত্নী অপৃচ্ছৎ, ভগবন! ইয়ং বালিকা কুতঃ আগতা? সঃ অবদৎ, “ইয়ং মূষিকবালিকা।” বাজবিহগস্য ভয়াৎ শরণার্থিনী কন্যারূপেণ তব গৃহং আনীতা। অতঃ ত্বম্ যত্নেন সহ রক্ষাং করিষ্যসি।

53.দাক্ষিণাত্যে মহিলারোপ্য নামে এক নগর ছিল। সেখানে অমরশক্তি নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর তিন পুত্র ছিল। তারা বসুশক্তি, উগ্রশক্তি ও অনেকশক্তি, তারা ছিল শাস্ত্রবিমুখ ও দুর্বুদ্ধিসম্পন্ন।

উত্তরঃ-দাক্ষিণাত্যে জনপদে মহিলারোপ্যং নাম নগরম্ অস্তি। তত্র অমরশক্তিঃ নাম রাজা বভূব। তস্য ত্রয়ঃ পুত্রাঃ আসন্। তেষাম্ নাম বসুশক্তিঃ, উগ্রশক্তিঃ অনেকশক্তিশ্চ। তে আসন্ শাস্ত্রবিমুখা দুর্বুদ্ধিসম্পন্নাশ্চ।

54.মাতা টেরিজা যুগোশ্লাভিয়ার স্কোপেজ নগরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কলকাতায় এসে তিনি লরেটো বিদ্যালয়ের এন্টালি শাখায় শিক্ষিকারূপে যোগদান করেন। তিনি মায়ের মতো পীড়িতদের সেবা করতেন।

উত্তরঃ-মাতা টেরিজা যুগোশ্লোভিয়ায়াঃ স্কোপেজ নগরে জায়তে স্ম। কলিকাতায়াম্ আগম্য সঃ লরেটো বিদ্যালয়স্য এন্টালি শাখায়াম্ শিক্ষিকারূপেণ যোগদানং অকরোৎ। সঃ মাতৃবৎ পীড়িতানাম্ সেবতে স্ম।

55.ধর্মই জীবন। সুখ ও দুঃখ ঢাকার মতো পরিবর্তিত হয়। সৎসঙ্গে সুখ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই জগতে যথার্থ বন্ধু দুর্লভ।

উত্তরঃ-ধর্মমেব জীবনম্। চক্রমেব পরিক্রমতে সুখানি দুঃখানি চ। সজ্জনেন সহ সুখং বর্ধতে। পরন্তু অস্মিন্ জগতি যথার্থম মিত্রম্ দুর্লভম্।

56.সজ্জনদের চরিত্র বৃক্ষের সঙ্গে তুলনীয়। বৃক্ষ সূর্যের তাপে দাঁড়িয়ে থেকেও তার নীচে আশ্রিত পথিকদের ছায়া প্রদান করে। বৃক্ষমূলে আঘাত করলেও গাছ ছেদকের মাথা থেকে ছায়া সরিয়ে নেয় না।

উত্তরঃ-সজ্জনানাং চরিত্রং বৃক্ষস্য চরিত্রেণ সহ উপমীয়তে। বৃক্ষঃ মূধ্না তীব্রং সূর্যতাপং অনুভবতি, ছায়য়া আশ্রিতানাং পরিতাপং শময়তি। কাষ্ঠছেদকঃ বৃক্ষস্য মূলম্ ছিনত্তি, পরন্তু বৃক্ষঃ কদাপি কাষ্ঠছেদকস্য শিরঃস্থিতাং ছায়াং ন অপসারয়তি।

57.শকুন বলল—’কে তুমি? সে বলল— আমি বেড়াল।’ শকুন বলল – দূর হও। না হলে আমি তোমাকে মেরে ফেলব।’ বেড়াল বলল— ‘আমার কথাটা তো শোন, তখন যদি হত্যা করতে হয় করবে’।

উত্তরঃ-গৃধ্ৰং অবদৎ, “কস্ত্বম্ ? সঃ অবদৎ,” অহম্ মার্জারঃ। গৃধ্রঃ অবদৎ, “দূরং ভব। নচেৎ অহম্ ত্বাম্ হনিষ্যামি। মার্জারঃ অবদৎ, “মম বচনং শৃণু, তদা যদি হংসি তর্হি করিষ্যসি।”

58.সংগ্রামই হল জীবন। জীবনে অনেক উত্থান পতন আছে। সুখ এবং দুঃখ চক্রের মতো পরিবর্তিত হয়। আলো-ছায়ার মতো সুখ এবং দুঃখ আসে এবং যায়। তাই ধৈর্য রাখা উচিত।

উত্তরঃ-সংগ্রামমেব জীবনম্। জীবনে অনেকানি উত্থান-পতনানি সন্তি চক্রবৎ পরিক্রমতে সুখানি দুঃখানি চ। আলোছায়াবৎ সুখানি দুঃখানি চ আগচ্ছন্তি গচ্ছন্তি চ। অতঃ ধৈর্যম্ রক্ষেৎ।

59.ভগিনী নিবেদিতা ১৮৬৭ সালের ২৮ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পূর্বজীবনে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল নামে পরিচিতা ছিলেন। লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষায় আকৃষ্ট হয়ে তিনি তাঁকে গুরু হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁকে অনুসরণ করেই নিবেদিতা ভারতের মহিলাদের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেন।

উত্তরঃ-ভগিনী নিবেদিতা ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দস্য ২৮ অক্টোবর ইতি দিবসে আয়ারল্যান্ডে জায়তে স্ম। সা পূর্বজীবনে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল ইতি নাম্না পরিচিতা আসীৎ। লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দেন সহ তস্যাঃ সাক্ষাৎকারঃ অভবৎ। স্বামী বিবেকানন্দস্য শিক্ষয়া আকৃষ্টাং ভূত্বা সা তম্ গুরুরূপেণ অগৃহ্ণাৎ। তম্ অনুসরণং কৃত্বা নিবেদিতা ভারতবর্ষস্য নারীণাং উন্নয়নার্থম্ আত্মানং উৎসর্গং কৃতবতী।

60.মানবজাতির কল্যাণের জন্য যারা কাজ করেন তাঁরাই ধন্য। জনসেবাই ঈশ্বরের সেবা। স্বার্থমগ্ন যে ব্যক্তি জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন, সে কখনও জীবনধারণের অর্থ জানে না। সত্যের দ্বারা মিথ্যাকে, ভালোবাসার দ্বারা ঘৃণাকে এবং অহিংসার দ্বারা হিংসাকে জয় করাই মানবজীবনের উদ্দেশ্য।

উত্তরঃ-মানবজাতীনাম্ কল্যাণার্থং যে কর্মাণি কুৰ্বন্তি তে এব ধন্য। জীবসেবা হি ঈশ্বরসেবা। স্বার্থমগ্নঃ ব্যক্তিঃ জগতঃ বিচ্ছিন্নম্। সঃ কদাপি জীবনধারণস্যার্থ ন জানাতি। সত্যেন মিথ্যা ভালোবাসয়া ঘৃণাম্ অহিংসয় হিংসাং জয়মেব মানবজীবনস্য লক্ষ্যম্।

61.অণু পরমাণু থেকে আরম্ভ করে গ্রহনক্ষত্র সর্বত্রই নিয়ম লক্ষ করা যায়। যেখানে শৃঙ্খলা নেই, সেখানে কল্যাণ বিঘ্নিত হয়। সমাজজীবনেও নিয়ম লঙ্ঘন করলে স্বৈরাচার চলে। তার ফলে অরাজকতা হতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে, ক্রীড়াক্ষেত্রে, যুদ্ধক্ষেত্রে এভাবে সকল ক্ষেত্রেই নিয়মনীতি পালন করা উচিত।

উত্তরঃ-অণুপরমাণুমারভ্য গ্রহনক্ষত্রাণি যাবৎ সর্বত্রৈব নিয়মঃ পরিলক্ষ্যতে। যত্র শৃঙ্খলা নাস্তি, তত্র কল্যাণং বিঘ্নিতং ভবতি। সমাজজীবনেঽপি নিয়মাতিক্রমেণ স্বৈরং প্রবর্ততে। তেন নৈরাজ্যং স্যাৎ। ক্রীড়াক্ষেত্রে, যুদ্ধক্ষেত্রে এবং সর্বেষু ক্ষেত্রেষু নিয়মনীতিঃ পরিপালনীয়া।

62.সকল গুণহীন ব্যক্তি যদি ধনবান হয় তাহলে তার দ্বারের বহির্দেশে গুণীগণ বিদ্যমান থাকেন। নির্ধনদের বিদ্যাই ধন। বিদ্যা চোরদের দ্বারা অপহৃত হতে পারে না। বিদ্যার দ্বারা যশলাভ হয়। যাদের বিদ্যারূপ সম্পদ আছে, তারা মৃত্যুর পর মানুষের মনে বর্তমান থাকেন। তাই তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেন বিদ্যাই শ্রেষ্ঠ।

উত্তরঃ-সর্বে গুণহীনাঃ মানবাঃ যদি ধনবান্ ভবন্তি তদা তস্য দ্বারস্য বহির্দেশে গুণিনঃ তিষ্ঠন্তি। নির্ধনানাং বিদ্যামেব ধনম্। বিদ্যা চৌরৈঃ ন অপহৃতা। বিদ্যয়া যশলাভং ভরতি। যেষাম্ বিদ্যামেব সম্পদম্ তিষ্ঠন্তি তে মৃত্যোঃ পশ্চাৎ মানবানাং মনসি তিষ্ঠন্তি। অতঃ তত্ত্বজ্ঞঃ ব্যক্তিগণঃ বদতি “বিদ্যামেব শ্রেষ্ঠ।”

63.ঠিক ঠিকভাবে কর্তব্য সম্পাদনই জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর। সূর্য অবিরাম কিরণ দেয়। বাতাস সর্বদা প্রবাহিত হয়। মানুষের আপন আপন কর্তব্য সম্পাদন করা উচিত। মানুষ কর্তব্য সম্পাদনের দ্বারা দেশকে বা জাতিকে উন্নত করে।

উত্তরঃ-সঠিক নিয়মেন কর্তব্যসম্পাদনমের জীবনস্য ভিত্তি। সূর্যঃ নিয়তমেব কিরণানি দদাতি। পবনঃ সর্বদা প্রবহতি। মানবস্য স্ব স্ব কর্তব্য সম্পাদনম্ কুৰ্যাৎ। মানবঃ কর্তব্যসম্পাদনেন দেশং জাতিং বা উন্নতং করোতি।

64.এজগতে জ্ঞানের মতো পবিত্র কিছুই নেই।’ তাই বিদ্যালয় জ্ঞানের আশ্রয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক মহাশয়রা আমাদের শিক্ষাদান করেন এবং সৎপথের উপদেশ দেন। বিদ্যালয়ের পাশে খেলার মাঠটি দূর্বাঘাসে ঢাকা, ছাত্ররা সেখানে দৌড়, খেলাধুলা, লাফালাফি প্রভৃতি নানাপ্রকার যোগাভ্যাস এবং বলখেলা প্রভৃতির দ্বারা ব্যায়াম চর্চা করে। বলা হয় যে, শরীরই আমাদের ধর্মসাধনের প্রধান উপায়।

উত্তরঃ-অস্মিন্ জগতি জ্ঞানবৎ পবিত্রং কিমপি নাস্তি। অতঃ বিদ্যালয়ং জ্ঞানস্য নিধিঃ । বিদ্যালয়ে শিক্ষকাঃ অস্মান্ শিক্ষাপ্রদানং কুৰ্বন্তি। উপদিশন্তি চ সন্মার্গম্ । বিদ্যালয়স্য পার্শ্বে ক্রীড়াক্ষেত্রং দূর্বাঙ্কুরেণ আবৃতঃ ছাত্রাঃ তত্র দৌড় ক্রীড়া লম্ফনাদি যোগাভ্যাসেন কন্দুকক্রীড়য়া চ শরীরচর্চাং কুর্বন্তি। অতঃ উচ্যতে শরীরং খলু ধর্মসাধনস্য প্রধানোপায়ঃ।

65.রাজা বিক্রমাদিত্য পৃথিবী পরিভ্রমণ করিতে করিতে কোনো এক নগরে উপস্থিত হইলেন। সেই নগরের নিকট স্বচ্ছসলিলা একটি নদী প্রবাহিত হইত এবং নদীতীরে নানাপ্রকার বৃক্ষ ও ফলপুষ্প পরিশোভিত এক বন ছিল। সেই বনের মধ্যে অতি মনোহর এক দেবালয় ছিল। রাজা ওই নদীর নির্মল জলে স্নান করিলেন এবং দেবালয়ে প্রবেশ করিয়া মন্দিরস্থ দেবতাকে প্রণামপূর্বক সেখানে উপবেশন করিলেন।

উত্তরঃ-রাজা বিক্রমাদিত্যঃ পৃথিবীং পরিভ্রমনম্ কস্মিংশ্চিৎ নগরে উপস্থিতবান্। অস্য নগরস্য সমীপে স্বচ্ছসলিলা একা নদী প্রবহতি । নদীতীরে চ ভিন্নাঃ বৃক্ষা ফলপুষ্পানি চ পরিশোভিতা একম্ বনম্ অস্তি। অস্য বনস্য মধ্যে অতীব মনোহরম্ একম্ দেবালয় আসীৎ। রাজা অস্যাঃ নদ্যাঃ নির্মলে জলে স্নানং অকরোৎ দেবালয়ে চ প্রবেশং কৃত্বা মন্দিরস্থাম্ দেবতাম্ প্রণম্য তত্র উপবিশতি স্ম।

66.কোনো এক বনে এক সিংহ ও সিংহী বাস করত। অনন্তর সিংহী দুটি পুত্রের জন্ম দিল। সিংহও প্রতিদিন পশুগুলিকে বধ করে সিংহীকে দিত। তারপর কোনো একদিন কিছুই পেল না। তারা বনে ঘুরতে ঘুরতেই সূর্য অস্ত গেল।

উত্তরঃ-কস্মিংশ্চিৎ বনে সিংহদম্পতী প্রতিবসতঃ স্ম। অথ সিংহী পুত্রদ্বয়ম্

জীজনৎ। সিংহোঽপি নিত্যমেব মৃগান্ নিহত্য সিংহ্যৈ দদাতি। অথ কদাচিত্তেন কিমপি নাসাদিতম্। বনে ভ্রমতোঽপি তস্য রবিরস্তং গতঃ।

67.কোনো এক রাজার সুভগা ও দুর্ভগা নামে দুই স্ত্রী ছিল। দুর্ভগা কোনো একদিন ভিক্ষুককে বলেছিল—“আজ ভিক্ষা দেওয়া হবে না।” নিরাশ ভিক্ষুক যখন চলে যাচ্ছে সেইসময় সুভগা ঘরে প্রবেশ করল এবং ভিক্ষুকের কাছ থেকে সব কিছু শুনল।

উত্তরঃ-কস্যচন্ রাজ্ঞো ভার্যদ্বয়মাসীৎ—সুভগা দুর্ভগেতি চ। দুৰ্ভগা কদাচিৎ একং ভিক্ষুকং প্রাহ—“অদ্য ভিক্ষা ন দাস্যতে”। হতাশো ভিক্ষুকঃ প্রচলন্নিবেতি তস্মিন্ সময়ে সুভগা গৃহং প্রবিশতি, ভিক্ষুকাচ্চ সর্বং শৃণোতি।

68.হস্তিনাপুরে বিলাস নামে এক ধোপা ছিল। তার গাধাটি ভার বহন করার ফলে অত্যন্ত দুর্বল ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। তারপর সেই ধোপাটি গাধাটিকে বাঘের চামড়া পরিয়ে অরণ্যের নিকটবর্তী শস্যক্ষেত্রে ছেড়ে দিল। তখন দূর থেকে তাকে দেখে বাঘ মনে করে কৃষকেরা তাড়াতাড়ি পালিয়ে গেল।

উত্তরঃ-হস্তিনাপুরে বিলাসঃ নাম একঃ রজকঃ আসীৎ। তস্য গর্দভঃ অতিভারবহনাদ্ দুর্বলো মুমূর্ষুরিবাভবৎ। ততস্তেন রজকেনাসৌ গর্দভম্ ব্যাঘ্রচর্মণা প্রচ্ছাদ্য অরণ্যসমীপে শস্যক্ষেত্রে নিযুক্তঃ। ততো দূরাৎ তমবলোক্য ব্যাঘ্রবুদ্ধ্যা কৃষকঃ সত্ত্বরং পলায়ন্তে স্ম।

69.একদিন শৃগাল হরিণকে ডেকে বলল- বন্ধু, এই বনের এক জায়গায় শস্যে ভরা এক খেত আছে। তা আমি তোমাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে দেখাব। সেকরম করা হলে হরিণ প্রতিদিন সেখানে গিয়ে শস্য খেয়ে আসে।

উত্তরঃ-একদা শৃগালঃ মৃগম্ অবদৎ- মিত্র, অস্য বনস্য একস্মিন্ স্থানে শস্যপরিপূর্ণং একং ক্ষেত্রম্ অস্তি। এতৎ অহং ত্বাং তত্র গত্বা দ্রক্ষ্যসি। তস্মিন্ অনুষ্ঠিতে মৃগঃ প্রত্যহম্ তত্র গত্বা শষ্যানি খাদিত্বা আগচ্ছতি।

70.পুরাকালে এই ভারতবর্ষে উত্তানপাদ নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর দুই স্ত্রী ছিল—সুনীতি এবং সুরুচি। ধ্রুব সুনীতির পুত্র এবং উত্তম সুরুচির পুত্র ছিল। একদিন রাজা উত্তানপাদ সিংহাসনে বসেছিলেন। কুমার উত্তম তাঁর কোলে বসল, তা দেখে ধ্রুবও সেখানে বসার জন্য ইচ্ছা করল, রানি সুরুচি সেই কুমারকে ভর্ৎসনা করলেন। মা (ধ্রুবর) তাকে সান্ত্বনা দিলেন।

উত্তরঃ-পুরা অস্মিন্ ভারতবর্ষে উত্তানপাদঃ নাম রাজা আসীৎ। তস্য দ্বে ভার্যা আস্তাম্—সুনীতিঃ সুরুচিশ্চ। ধ্রুবঃ সুনীতেঃ পুত্ৰঃ সুরুচেঃ পুত্রঃ উত্তমশ্চ অভবতাম্। একদা রাজা উত্তানপাদঃ সিংহাসনে উপবিষ্টঃ, তদ্‌দৃষ্ট্বাধুবোঽপি তত্রোপবেশনায় ঐচ্ছৎ, রাজ্ঞী সুরুচিঃ তং কুমারং তিরস্কৃতবর্তী। মাতা চ তং সান্ত্বনাং দত্তবতী।

71.বিক্রমাদিত্য নামে সর্বগুণসম্পন্ন এক রাজা ছিলেন। একসময়ে তিনি মনে মনে চিন্তা করলেন—আহা, অসার এই সংসার। কখন কার কী হবে, কেউ জানে না। উপার্জিত অর্থ—দান-ত্যাগ ছাড়া সফল হয় না। অতএব, অর্থের সৎপাত্রে দানেই ফললাভ হয়, অন্যথায় তা নষ্ট হয়ে যায়।”

উত্তরঃ-আসীৎ সকলগুণোপেতো বিক্রমাদিত্যঃ নাম রাজা। স একদা স্বমনস্যচিন্ত য়ৎ-অহো! অসারোহয়ং সংসারো। কদা কস্য কিং ভবিষ্যতি ন জ্ঞায়তে। অত উপার্জিতং বিত্তং দানভোগৈর্বিনা সফলং ন ভবতি। অতো বিত্তস্য সৎপাত্রে দানমেকং ফলম্। অন্যথা নাশমের প্রাপ্নোতি।

72.মন্দারপর্বতে দুর্দান্ত নামে এক সিংহ বাস করত। সে সর্বদাই পশুবধ করত। তখন সব পশুরা মিলে তাকে জানাল— পশুরাজ, আপনি একসঙ্গে এত পশুবধ করেন কেন? যদি আপনি অনুগ্রহ করেন তবে আমরাই আপনার আহারের জন্য প্রতিদিন একটি করে পশু উপহার হিসেবে পাঠাতে পারি।

উত্তরঃ-মন্দারনাম্নি পর্বতে দুর্দান্তঃ নাম একঃ সিংহঃ বসতি স্ম। সঃ সর্বদা পশুনাং বধং অকরোৎ। তদা সর্বে পশবঃ একদা মিলিত্বা তাং অবদন—পশুরাজ! কথং ভবান্ একদা বহুপশূন্ মারয়তি? যদি প্রসন্নঃ ভবতি তৰ্হি বয়ম্ ভবতঃ ভক্ষণার্থং প্রত্যহম্ ঐকেকং পশুম্ উপহরিষ্যামঃ।

73.পূর্বকালে শোভাবতী নামে যথার্থনামা এক নগরী ছিল। সেখানে শূদ্রক নামে অতীব পরাক্রমশালী শাস্ত্রভিজ্ঞ কোনো এক রাজা বাস করতেন। বীরবর নামে এক রাজপুত্র কোনো এক দেশ থেকে এসে রাজদ্বারের দ্বাররক্ষীর কাছে বললেন—চাকুরিপ্রার্থী রাজপুত্র আমি। আমাকে রাজদর্শন

করাও।

উত্তরঃ-পুরাকালে শোভাবতী নাম যথার্থনাম্নী কাচিৎ নগরী আসীৎ। তত্র শূদ্রকঃ নাম অতীব পরাক্রমশালী শাস্ত্রবিৎ কোঽপি নৃপঃ বসতি স্ম। বীরবরঃ ইতি একঃ রাজপুত্রঃ কশ্চিৎ দেশাৎ আগম্য রাজদ্বারস্য দৌবারিকম্ অবদৎ বর্তনার্থী রাজপুত্রোঽহম্। মাং রাজদর্শনং কারয়।

74.কুসুমপুর নামে এক নগর ছিল। সেখানে চন্দ্রগুপ্ত নামে এক মৌর্য নরপতি ছিলেন, যাঁর কাজকর্ম রাক্ষস নামে তাঁর এক মন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করতেন। সেই রাজার উত্তমরূপে শাসন-করা রাজ্যে এক ব্রাহ্মণ দম্পতি বাস করতেন। তাঁদের একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করেছিল।

উত্তরঃ-আসীৎ কুসুমপুরং নাম নগরম্। তত্র রাক্ষসেন মন্ত্রিণা প্রত্যবেক্ষ্যমাণচন্দ্রগুপ্তো নাম মৌর্য রাজা বভূব। তেন রাজ্ঞা রাজদ্বতি রাজ্যে ব্রাহ্মণদম্পতী প্রত্যূষতুঃ। তয়োরেকঃ পুত্রঃ জাতঃ ।

75.গান গাইতে গাইতে ছেলেটি এই পথে আসছে। কে সে? কী নাম ওর? কোথায় থাকে? জেনে এসো। এসে আমাকে বলবে।

উত্তরঃ-গীতং গায়ন্ বালকঃ অনেন পথা আগচ্ছতি। কঃ সঃ? অমৃষ্য কীং নাম? কুত্ৰ জ্ঞাত্বা আগচ্ছ। আগম্য মাং বদিষ্যসি।

76.বারাণসীতে কর্পূরপট নামে এক রজক ছিল। সে একদিন ঘুমোচ্ছিল। এমন সময় তার জিনিসপত্র চুরি করার জন্য এক চোর তার বাড়িতে ঢুকল। তার উঠানে একটি গাধা বাঁধা ছিল, একটি কুকুরও বসেছিল। চোরকে দেখে গাধা কুকুরটিকে বলল– বন্ধু, এ তো তোমারই কাজ। তাহলে তুমি কেন চিৎকার করে প্রভুকে জাগাচ্ছ না?

উত্তরঃ-আসীৎ বারাণস্যাং কর্পূরপটঃ ইতি রজকঃ। সঃ চৈকদা নির্ভরং প্রসুপ্তঃ। তদা তস্য দ্রব্যাণি হতুং তদ্‌গৃহং চৌরঃ প্রবিষ্টঃ। তস্য প্রাঙ্গণে গর্দভঃ বন্ধঃ তিষ্ঠতি। কুক্কুরশ্চ উপবিষ্টঃ। তং চৌরমবলোক্য গর্দভঃ কুক্কুরমাহ—“ভবতোঽয়ং ব্যাপারঃ, তত্ কিমিতি উচ্চৈঃ শব্দঃ কৃত্বা স্বামিনঃ ন জাগরয়সি?

77.যুধিষ্ঠির নামে একজন কুম্ভকার অত্যন্ত বেগে দৌড়োতে কোনো এক অর্ধেক-ভাঙা কলসের উপর অসাবধানবশত পড়ে যায়, ফলে তার কপালে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। তারপর কোনো একসময় দেশে দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হলে ক্ষুধায় কাতর হয়ে সেই কুম্ভকার অন্যদেশে গিয়ে কোনো এক রাজার সেবক নিযুক্ত হয়। সেই রাজা তার কপালে বড়ো ক্ষতচিহ্ন দেখে চিন্তা করলেন, কপালের সামনে যখন এত বড়ো ক্ষত; তাহলে নিশ্চয় ইনি একজন বীরপুরুষ।

উত্তরঃ-যুধিষ্ঠিরো নাম কুম্ভকারঃ কদাচিৎ প্রমাদাৎ অর্ধভগ্নকলসস্য অগ্নোপরি মহতা বেগেন ধাবন্ পতিতঃ, তেন তস্য-ললাটে ক্ষতং জাতম্। অথ কদাচিৎ দুর্ভিক্ষপীড়িতে দেশেস কুম্ভকারঃ ক্ষুৎক্ষামকণ্ঠঃ দেশান্তরং গত্বা কস্যাপি রাজ্ঞঃ সেবকো বভূব। সচ রাজা তস্য ললাটে বিকরালং প্রবহাক্ষতং দৃষ্ট্বা চিন্তয়ামাস—‘যৎ বীরপুরুষঃ’ কশ্চিদ? নূনং তেন ললাটপট্টে সম্মুখ ভবতি।

78.অনন্তর রাজা মুনিদের আশ্রমে গেলেন। সেখানে খাঁচায় বদ্ধ শুক বলল—এস হে রাজা, শীতল গাছের তলায় উপবেশন করো। ওহে ঋষিগণ, তোমরা এর সমাদর করো। তখন সেই রাজা শুক পাখিকে জিজ্ঞাসা করলেন—আমি অন্য বনে তোমার মতো শুকপাখি দেখেছি।

উত্তরঃ-অথ রাজা মুনীনাম্ আশ্রমং গতঃ। তত্র পিঞ্জরস্থঃ শুকঃ অবদৎ —আগচ্ছ! ভো রাজন্‌ সুশীতল দ্ৰুমতলে উপবিশ। ভো ঋষয়ঃ। যূয়ং অস্য সমাদরং কুরুত ইতি। তদা নৃপঃ শুকম্ অপ্‌চ্ছৎ—‘ময়া অন্যস্মিন্ বনে তৎ সদৃশঃ শুকো দৃষ্টঃ।

79.একবার দেবরাজ ইন্দ্র শিবিরাজের ধর্ম পরীক্ষার জন্য শ্যেনের রূপ ধারণ করে কপোতরূপী ধর্মকে হত্যা করতে ধাবিত হল।

শ্যেনের ভয়ে ভীত হয়ে কপোেত প্রাণরক্ষার জন্য রাজা শিবির ক্রোড়ে পতিত হল।

উত্তরঃ-একদা দেবরাজঃ ইন্দ্রঃ শিবিরাজস্য ধর্ম পরীক্ষার্থং শ্যেনরূপং ধৃত্বা কপোতরূপং ধর্মং হন্তুম্ ধাবৎ। শ্যেনোদ্ভীতঃ কপোতঃ প্রাণরক্ষার্থং রাজ্ঞঃশিবেঃ ক্রোড়ে অপতৎ।

80.সুস্বাস্থ্যই সমস্ত সুখের মূল কারণ। দেহের সুস্থতা ছাড়া ভালোভাবে বিদ্যাশিক্ষা সম্পন্ন হয় না। অতএব সমস্ত ছাত্রের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। ছাত্রদের নিয়মিত শরীরচর্চা করা কর্তব্য।

উত্তরঃ-স্বাস্থ্যমের সর্বসুখস্য নিদানম্। দৈহিক সুস্থতাং বিনা বিদ্যা শিক্ষাদিকং কিমপি উত্তমরূপেণ ন সম্পদ্যতে। অতঃ সৰ্বরৈব ছাত্রে স্বাস্থ্যং প্রতি বিশেষেণ যত্নো বিধেয়ঃ। ছাত্রাণাং নিয়মিত শরীরচর্চা কর্তব্যা।

81.কোনো এক স্থানে ব্রক্ষ্মদত্ত নামে এক ব্রাহ্মণ বসবাস করত। সে প্রয়োজন হেতু গ্রামে গেল। মা তাকে বললেন যে, ‘বাছা কেন একাকী যাচ্ছ? দ্বিতীয় সহায়ের অনুসন্ধান করো। সে বলল—’মা চিন্তা কোরো না।’

উত্তরঃ-কস্মিংশ্চিদধিষ্ঠানে ব্রক্ষ্মদত্তঃ নাম কশ্চিৎ ব্রাহ্মণঃ অবসৎ। স প্রয়োজনেন গ্রামং গচ্ছতি। মাতা তং অবদৎ যৎ–কিং একাকী গচ্ছসিঃ দ্বিতীয় সহায়স্য অনুসন্ধানং কুরু’। স অবদৎ – “মাতা ন চিন্তয়সি’।

82.পাটলিপুত্রে বিন্দুসার নামে এক রাজা রাজত্ব করতেন। তাঁর একটি পুত্র জন্মেছিল। তার নাম ছিল সুসীম। সেইসময় চম্বা নগরীতে এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন। তাঁর একটি সুন্দরী কন্যা ছিল। ব্রাক্ষ্মণ সেই কন্যাকে নিয়ে পাটলিপুত্রে গিয়েছিলেন।

উত্তরঃ-আসীৎ পাটলিপুত্রে বিন্দুসারঃ নাম নৃপঃ রাজত্বং অকরোৎ। তস্য একঃ পুত্রঃ অজায়ৎ। তস্য নাম সুসীমঃ আসীৎ। তৎকালে চম্পা নগর্যাৎ একঃ ব্রাহ্মণঃ অবসৎ। তস্য একা সুন্দরী কন্যা আসীৎ। ব্রাক্ষ্মণ ত্বাং কন্যাং নীত্বা পাটলিপুত্ৰং গতঃ ।

83.পাখার দ্বারা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও রাজার বুকের উপর একটি মাছি বসেছিল। তারপর স্বভাব চঞ্চল মূর্খ বানরটি খড়্গ দিয়ে মাছিটিকে আঘাত করল। কিন্তু মাছিটি উড়ে গেল এবং খড়্গাঘাতে রাজার মৃত্যু হল।

উত্তরঃ-ব্যঞ্জনেন বারংবারং নিবৃত্তাপি কশ্চিৎ মক্ষিকাঃ নৃপস্য বক্ষোপরি অবসৎ। অতঃ স্বভাবঃ চঞ্চলঃ মূর্খ বানর খঙ্গেন মক্ষিকাং নিবৃত্তম্ ইচ্ছতি। পরন্তু মক্ষিকা উড্ডীয়াজাতা, খঙ্গাঘাতেন নৃপঃ চ পঞ্চত্বং গতঃ।

84.শরীরচর্চা হল প্রথম ধর্মসাধন। সুস্থ শরীর ছাড়া জীবনযাত্রা চলে না। শরীরচর্চা না করলে শরীর নীরোগ ও সুস্থ হয় না। এজন্য বিদ্যালয়ে আজকাল শরীরচর্চা বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরঃ-শরীরচর্চাঃ ইব প্রথমঃ ধর্মসাধনঃ। সুস্থ শরীরং বিনা জীবনং ন চলতি। শরীরচর্চা ব্যতীত শরীরঃ নীরোগ ন ভবতি। অতঃ ইদানীংকালে বিদ্যালয়েষু শরীরচর্চা বিষয়ে বিশেষং মনোযোগং প্রদত্তম্।

85.বর্ষাকাল অতিবাহিত হল। পরমপ্রীতিদায়ক শরৎকালের আগমন ঘটেছে। বর্ষার বারিধারায় সমস্ত জীব অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেছে। এখন বৃষ্টির উপশম ঘটেছে। মেঘমুক্ত আকাশ ও জলাশয়গুলি জলপূর্ণ।

উত্তরঃ-বর্ষাকালঃ অপগতঃ। পরমপ্রীতিদায়কস্য শরৎকালস্য আগমনং ভবতি। বর্ষাসু বারিধারাসু সর্বে জীবে মহতী কষ্টং সহিতুম্। অতঃ বৃষ্টিরূপশমঃ ভবতি। মেঘমুক্তঃ গগনঃ ভবতি জলাশয়াঃ অপি জলপূর্ণাঃ ভবন্তি।

86.কোনো এক বনে ভাসুরক নামে এক সিংহ বাস করত। যে প্রতিদিন বহু পশু হত্যা করত। সমস্ত পশু মিলিত হয়ে তাকে বলল—প্রভু! এইরূপ সব পশুবধের কী প্রয়োজন।

উত্তরঃ-কস্মিংশ্চিৎ বনে ভাসুরকঃ নাম একঃ সিংহঃ প্রতিবসতি স্ম। সঃ প্রত্যহম্ অনেকান্ পশূন্ হস্তি স্ম। সর্বে পশবঃ মিলিত্বা তম্ অবদন্। প্রভো! এবম্ সর্বেষাম্ পশুবধানাং কিম্ প্রয়োজনম্ ।

87.দেউলাখ্য নামে একটি গ্রাম ছিল। সেখানে রাজসিংহ নামে এক রাজপুত্র বাস করত। তার স্ত্রী কলহপ্রিয়া বলে খ্যাত ছিল। একসময় সে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে দুই পুত্রকে নিয়ে পিতার গৃহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল।

উত্তরঃ-দেউলাখ্যো নাম একঃ গ্রামঃ আসীৎ। তত্র রাজসিংহঃ নাম একঃ

রাজপুত্রঃ অবসৎ। তস্য ভার্যা কলহপ্রিয়া নাম্না খ্যাতবতী। একদা সা পত্যা সহ কলহং কৃত্বা দ্বৌ পুত্রৌ নীতা পিতুঃ গৃহং প্রতি যাত্রাং অকরোৎ।

88.ভারতবর্ষের উত্তরে পর্বতরাজ হিমালয় অবস্থিত। এটি দেবতাদের আত্মস্বরূপ। হিমালয় পর্বত রূপার মতো সাদা ধবধবে মনে হয়, তার সর্বাধিক উচ্চতা বিস্ময় সৃষ্টি করে। উত্তর দিকে অবস্থিত হিমালয় পর্বত সর্বদা প্রহরীর মতো আমাদের দেশকে রক্ষা করে।

উত্তরঃ-ভারতবর্ষস্য উত্তরে পর্বতরাজঃ হিমালয়ঃ অবস্থিতঃ ভবতি। ইয়ং দেবতানাং আত্মাস্বরূপং ভবতি। হিমালয়ঃ রজকঃ ইব শুভ্রঃ ইতি মন্যতে। তস্য সর্বাধিক উচ্চতা বিস্ময় সৃষ্টিং করোতি। উত্তরদিশায়াম্ অবস্থিতঃ হিমালয়পর্বতঃ সর্বদা প্রহরীমিব অস্মাকং দেশং রক্ষতি।

89.একটি গাছে একটি কাক ঘুমোচ্ছিল। সেই গাছের নীচেই একটা বক বাস করত। তারা দুজনে সমুদ্রতীরে চলল। পথে কোনো এক গোয়ালার মাথার উপরে রাখা দই-এর ভাড় থেকে কাকটি বারবার দই খাচ্ছিল।

উত্তরঃ-একস্মিন্ বৃক্ষে একঃ বায়সঃ নিদ্রিতঃ আসীৎ। তস্য বৃক্ষস্যাধঃ একঃ বকঃ প্রতিবসতি স্ম। তৌ দ্বৌ সমুদ্রতীরম্ অগচ্ছতাম্। পথি কস্যচিৎ গোপসা মস্তকস্যোপরি দধিভাণ্ডাৎ বায়সঃ পুনঃ পুনঃ দধি অভক্ষয়ৎ।

90.এভাবে যেতে যেতে তারা অবন্তীনগরে উপস্থিত হল। সেখানে শিপ্রা নদীর জলে স্নান করে মহাকালকে প্রণাম করল। তখন ভৈরবানন্দ নামে এক যোগী তাদের সামনে এল।

উত্তরঃ-একমেব গচ্ছন্তঃ তে অবন্তীনগরে উপস্থিতবস্তঃ। তত্র শিপ্রা নদ্যাঃ জলে স্নাত্মা মহাকালং নমস্করত্তি স্ম। তদা ভৈরবানন্দঃ নাম একঃ যোগী তেষাম্ সমীপে আবির্ভূতঃ।

91.যে পরিশ্রমী সে সম্পদ লাভ করে, যে হিতকর খাদ্য আহার করে সে স্বাস্থ্যলাভ করে। স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি মুখ লাভ করে, সুশিক্ষিত ব্যক্তি ধর্ম, অর্থ, যশ লাভ করে।

উত্তরঃ-যঃ পরিশ্রমী স সম্পদং লভতে। যঃ হিতকরঃ খাদ্যং ভুত্তে সং স্বাস্থ্যং লভতে। স্বাস্থ্যবান্ জনঃ সুখং লভতে। সুশিক্ষিতঃ জনঃ ধর্মম্ চ অর্থম্ চ যশশ্চ লভন্তে।

92.সিংহ কুয়োর জলে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে গড়নি করে উঠল। তখন কুয়োর মধ্যে দ্বিগুণ প্রতিশব্দ উঠল। সেই শব্দ শুনে প্রতিবিঘ্নিত সিংহকে শত্রু মনে করে সিংহ তার উপর লাফিয়ে পড়ল।

উত্তরঃ-সিংহঃ কূপজলে স্বস্য প্রতিবিম্বৎ দৃষ্ট্বা গর্জনম্ অকরোৎ। তদা কূপমধ্যে দ্বিগুণং প্রতিশব্দং ধ্বনি। তৎ শব্দং শ্ৰুত্বা প্রতিবিম্বসিংহম্ অরি ইতি মনসি সিংহঃ তস্যোপরি লম্ফপ্রদানম্ অকরোৎ।

সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা অনুবাদ – বাংলা টু সংস্কৃত – সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ করো – সংস্কৃত থেকে বাংলা অনুবাদ – সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ – বাংলা থেকে সংস্কৃত অনুবাদ করো class 12

2 thoughts on “বাংলা হতে সংস্কৃত অনুবাদ-(Bengali to Sanskrit)”

Leave a Comment