সূত্র: ধারেরুত্তমর্ণঃ (১।৪।৩৫)

ধারি + উত্তমর্ণঃ = ধারেরুত্তমর্ণঃ। ধারেরুত্তমর্ণঃ সূত্রটির দীক্ষিত, পদটীকা, অনুবাদ, উদাহরণ সহযোগে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

ধারেরুত্তমর্ণঃ

সূত্রধারেরুত্তমর্ণঃ
রচয়িতা পাণিনি
সংখ্যা১।৪।৩৫
ধারেরুত্তমর্ণঃ

“ধারেরুত্তমর্ণঃ” সূত্রটির দীক্ষিত

ধারয়তেঃ প্রয়োগে উত্তমর্ণ উক্তসংজ্ঞঃ স্যাৎ। যেমন- ভক্তায় ধারয়তি মোক্ষং হরিঃ। উত্তমর্ণঃ কিম্? দেবদত্তায় শতং ধারয়তি গ্রামে।

“ধারেরুত্তমর্ণঃ” সূত্রটির পদটীকা

উত্তমর্ণঃ – উত্তমং ঋণং যস্য স উত্তমর্ণঃ। অর্থাৎ ঋণদাতা বা মহাজন। মহাজনের কাছে ঋণ নেওয়া উত্তম, কারণ তাঁর দেওয়া অর্থ সুদসংযোগহেতু বর্ধিত হয়।

“ধারেরুত্তমর্ণঃ” সূত্রটির অনুবাদ

‘ধারি’ ধাতুর যোগে উত্তমর্ণ’ ‘সম্প্রদান কারক সংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়। যথা, – ভক্তায় ইত্যাদি। হরি ভক্তের কাছে মোক্ষ বিষয়ে ঋণী। ‘উত্তমর্ণ’ কেন? উত্তমর্ণ না হইলে সম্প্রদান কারক হয় না। যথা, দেবদত্তায় ইত্যাদি।

“ধারেরুত্তমর্ণঃ” সূত্রটির আলোচনা

‘ধারি’ ধাতুর যোগে যেখানে সেখানে সম্প্রদান কারক হয় না, ‘উত্তমর্ণই’ কেবল সম্প্রদান কারক হয়। উদাহরণে ‘ভক্ত’ উত্তমর্ণ, কারণ সে হরিকে যে ভক্তি দেয়, সেই ভক্তিই পরে ভক্তিরূপ ঋণে বদ্ধ অধমর্ণ ‘হরির’ কাছ থেকে যেন সুদসহযোগে বেড়ে উঠে মুক্তিরূপে ফিরে আসে। ভক্ত দেয় কম, কিন্তু পায় বেশি। ভক্তিই মুক্তিতে পরিণত হয়। এই মুক্তি যেন দেবতার করুণা নয়, ঋণ পরিশোধ, অর্থাৎ যেখানে ‘ভক্তি’, সেখানে “মুক্তি’ অনিবার্য। ‘ভক্ত’ উত্তমর্ণ বলে ‘ভক্তায়’ সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

অপরদিকে ‘দেবদত্তায় শতং ধারয়তি গ্রামে’ এই বাক্যে ‘দেবদত্ত’ উত্তমর্ণ, অতএব সম্প্রদান কারক। কিন্তু ‘গ্রাম’ উত্তমর্ণ নয়, সেজন্য সম্প্রদান কারক হয়নি, ‘আধার’ বলে ‘গ্রামে’ পদটিতে অধিকরণ কারক -এ সপ্তমী বিভক্তি হয়েছে।

Leave a Comment