সংস্কৃত ব্যাকরণ প্রত্যয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

Class XII: 4th Semester সংস্কৃত ব্যাকরণ প্রত্যয় থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ থেকে প্রকাশিত মডেল প্রশ্ন উত্তর গুলি দেওয়া হল।

Class XII: 4th Semester সংস্কৃত ব্যাকরণ প্রত্যয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

প্রত্যয়

শব্দ/পদ গঠন করো:

যাদৃশ্+ঙীপ্=যাদৃশী          বিদ্বস্+ঙীপ্=বিদুষী   

নশ্বর+ঙীপ্=নশ্বরী           চতুষ্টয়+ঙীপ্=চতুষ্টয়ী    পাচক+টাপ্=পাচিকা          তারক+টাপ্=তারিকা

কাল+টাপ্=কালা            কৃশ+টাপ্=কৃশা      

তরল+টাপ্=তরলা           কোকিল+টাপ্=কোকিলা  

ভাজ+টাপ্=ভাজা            নাগ+টাপ্=নাগা

সাধক+টাপ্=সাধিকা          নিপুণ+টাপ্=নিপুণা   

বোধক+টাপ্=বোধিকা         জীবক+টাপ্=জীবকা/জীবিকা

অজ+টাপ্=অজা             গায়ক+টাপ্=গায়িকা

প্রিয়বাদিন্+ঙীপ্=প্রিয়বাদিনী      কিৎ+সন্+লট্ তি=চিকিৎসতি     কথ্+ণিচ্+লট্ তি= কথয়তি      পঠ্+ণিচ্+লট্ তি=পাঠয়তি      সৃজ্+সন্ লট্ তে=সিসৃক্ষতে      বিদ্‌+যঙ্+লট্ তে=বেবিদ্যতে     বুধ্+ণিচ্+লট্ তি=বোধয়তি      বহ্+সন্+লট্ তি=বিবক্ষতি       যা+সন্+লট্ তি=যিযাসতি       প্রচ্ছ্+সন্+লট্ তি=পিপৃচ্ছিষতি     কৃ+সন্+লট্ তি=চিকীর্ষতি       অদ্+সন্+লট্ তি=জিঘৎসতি

পা+যঙ্+লট্ তে=পেপীয়তে      তিজ্+সন্+লট্ তে=তিতিক্ষতে     শুভ্+যঙ্+লট্ তে=শোশূভ্যতে    ব্রূ+যঙ্+লট্ তে=বাবচ্যতে       নম্+যঙ্+লট্ তে=নংনম্যতে     জ্ঞা+সন্+লট্ তে=জিজ্ঞাসতে      রুচ্+যঙ্+লট্ তে=রোরুচ্যতে    গম্+যঙ্+লট্ তে=জঙ্গম্যতে

এককথায় প্রকাশ করো:

পুনঃ পুনঃ চলতি=চঞ্চল্যতে         পুনঃ পুনঃ ধাবতি=দাধাব্যতে

পুনঃ পুনঃ ভ্রমতি=বম্ভ্রম্যতে         পুনঃ পুনঃ রোদিতি=রোরুদ্যতে

পঠিতুম্ ইচ্ছতি=পিপঠিষতি          ভবিতুম্ ইচ্ছতি=বুভূষতি           পতিতুম্ ইচ্ছতি=পিপতিষতি         আপ্তুম্ ইচ্ছতি=ঈপ্সতি

স্থাতুম্ ইচ্ছতি=তিষ্ঠাসতি           জ্ঞাতুম্ ইচ্ছতি=জিজ্ঞাসতে

দ্বৌ পাদৌ যস্যাঃ সা=দ্বিপাৎ/দ্বিপদী    যবনস্য স্ত্রী=যবনী

সূর্যস্য মানবী স্ত্রী=সূরী            সূর্যস্য দেবতা স্ত্রী=সূর্যা

স্ত্রী-প্রত্যয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সকল প্রত্যয় যোগ করে পুংলিঙ্গবাচক শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দে রূপান্তরিত করা যায়, সেই সকল প্রত্যয়গুলিকে স্ত্রী প্রত্যয় বলে। কয়েকটি স্ত্রী প্রত্যয়ের উদাহরণ হল- টাপ্, ঙীপ্, ঙীষ্ ও ঊঙ্ ইত্যাদি।  

সনন্ত ধাতু কি?

উত্তর: যে ধাতুর শেষে সন প্রত্যয় যোগ হয় তাকে বলে সনন্ত ধাতু। মূল ধাতু+সন্=সনন্ত ধাতু।

‘সন’ প্রত্যয়ের প্রয়োগ কখন হয়?

উত্তর: যদি কোনো ব্যক্তি নিজেই কোনো কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, আর সেই কাজটি কোনো কর্ম বোঝায়, তাহলে ধাতুর পরে সন্ প্রত্যয় বসে।

‘সন্’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুর কি পরিবর্তন হয়?

উত্তর: ধাতুটির দ্বিত্ব হয়-পঠ্>পিপঠ, সন্ প্রত্যয়ের স থাকে, বাকি অংশ লোপ হয়, সন্ধি অনুসারে স্ অনেক সময় য হয়ে যায়। এইভাবে তৈরি হয় সন্>পিপঠিষ।

সম্ভাবনা অর্থে ধাতুর উত্তর কোন প্রত্যয় হয়?

উত্তর: সম্ভাবনা অর্থে ধাতুর উত্তর সন্ প্রত্যয় হয়।যেমন- বৃদ্ধঃ মুমূৰ্ষতি।

জ্ঞা, শ্রু, স্মৃ, দৃশ্ ধাতু সনন্ত, হলে ধাতুর উত্তর কোন রূপ হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: √জ্ঞা, √শ্রু, √স্মৃ, √দৃশ্ ধাতু সনন্ত হলে ধাতুর উত্তর আত্মনেপদী হয়। যেমন- জ্ঞাতুম্ ইচ্ছতি=জিজ্ঞাসতে(√জ্ঞা + সন্+লট্ তে), শ্রোতুম্ ইচ্ছতি=শুশ্রূষতে(√শ্রু+সন্+লট্ তে), স্মর্তুম্ ইচ্ছতি=সুস্মূর্ষতে (√স্মৃ+সন্+লট্ তে), দ্রষ্টুম্ ইচ্ছতি=দিদৃক্ষতে(√দৃশ্ + সন্+লট্ তে)।

সন্ প্রত্যয়ের প্রধান কাজ কী?

উত্তর: নতুন অর্থের ধাতু তৈরি করে, সাধারণত ইচ্ছা বোঝায়।

সন্ প্রত্যয় যোগের তিনটি শর্ত কী কী?

উত্তর: সন্ প্রত্যয় যোগের তিনটি শর্ত হলো-ইচ্ছা অর্থে ধাতুর পরে সন্ প্রত্যয় যোগ করা হয়, অচেতন পদার্থের ইচ্ছা কল্পনা করা হলে ধাতুর পরে সন্ প্রত্যয় যোগ করা হয় ও সম্ভাবনা অর্থে ধাতুর উত্তর সন্ প্রত্যয় হয়।

যঙন্ত ধাতু কাকে বলে?

উত্তর: যঙ্ যার অন্তে থাকে তাকে বলে যঙন্ত। যঙ্ প্রত্যয় যে ধাতুর শেষে থাকে তাকে যঙন্ত ধাতু বলে।

কোন ধাতুতে যঙ্ প্রত্যয় হয়?

উত্তর: একস্বর বিশিষ্ট ধাতু এবং ধাতুর আদিতে ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে যঙ্ প্রত্যয় হয়।

কোন ক্ষেত্রে যঙ্ হয় না?

উত্তর: যদি ধাতু একস্বরবিশিষ্ট না হয়।যেমন-জানু একং যদি ধাতুর শুরুতে স্বরবর্ণ থাকে।যেমন-ই এই দুই ক্ষেত্রে যঙ্ প্রত্যয় হয় না।

গমনার্থক ধাতুর উত্তর কোন অর্থে যঙ্ হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: গমনার্থক ধাতুর উত্তর বক্রগতি বোঝালে। উদাহরণ- কুটিলং গচ্ছতি=জঙ্গম্যতে।

ঋ কারান্ত শব্দ স্ত্রী লিঙ্গে কোন প্রত্যয় হয়?

উত্তর: ঋ কারান্ত শব্দ স্ত্রী লিঙ্গে ঙীপ্ প্রত্যয় হয়। উদাহরণ-  দাতৃ+ঙীপ্=দাত্রী,

ন কারান্ত শব্দ স্ত্রী লিঙ্গে কোন প্রত্যয় হয়?

উত্তর: ন কারান্ত শব্দ স্ত্রী লিঙ্গে ঙীপ্ প্রত্যয় হয়। উদাহরণ- গুণিন্+ঙীপ্=গুণিনী।

প্রত্যয় নির্ণয় কর যুবতিঃ।

উত্তর: যুবতিঃ=যুবন্+তি+স্ত্রী প্রথমা একবচন।

ন কারান্ত সংখ্যা বাচক শব্দ যথা (পক্রম, সপ্ত, অষ্ট) ইত্যাদিতে কী স্ত্রী প্রত্যয় হয়?

উত্তর: ন কারান্ত সংখ্যা বাচক শব্দ যথা (পক্রম, সপ্ত, অষ্ট) ইত্যাদিতে কোনো স্ত্রী প্রত্যয় হয় না।

ভ্বাদিগণীয় ধাতুর স্ত্রী লিঙ্গ কিভাবে হয়?

উত্তর: ভ্বাদিগণীয় ধাতুর সাথে শতৃপ্রত্যয় যোগ করে শতৃ প্রত্যয়ান্ত পদের সাথে ঙীপ্ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীলিঙ্গ হয়। উদাহরণ- গম্+শতৃ(গচ্ছৎ)+ ঙীপ্=গচ্ছন্তী।

তুদাদিগণীয় ধাতুর স্ত্রী লিঙ্গ কিভাবে হয়?

উত্তর: তুদাদিগণীয় ধাতুর সাথে শতৃপ্রত্যয় যোগ করে শতৃ প্রত্যয়ান্ত পদের সাথে ঙীপ্ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীলিঙ্গ হয়।লিখ্+শতৃ(লিখৎ)+ ঙীপ্ =লিখতী/লিখন্তী।

অপত্যার্থে স্ত্রীলিঙ্গ হলে কি হয়?

উত্তর: অপত্যার্থে স্ত্রীলিঙ্গং হলে ঙীপ্ প্রত্যয় হয়। যেমন- গার্গ+ঙীপ্=গার্গী।

সমাসে ‘পতি’ শব্দ থাকলে কীরূপ হয়?

উত্তর: সমাসে পতি শব্দ থাকলে বিকল্পে ঙীপ্ হয়। যেমন- গৃহপতি>গৃহপত্নী।

আতিশয্য অর্থে ‘যত্’ প্রত্যয়ের দুটি ব্যবহার দেখাও।

উত্তর: পড়ছে-পঠতি। কিন্তু অতিশয়ভাবে অর্থাৎ বার বার পড়ছে- এই অর্থে ‘য’ প্রত্যয় যুক্ত করতে হবে, পঠ যঙ লট্ তি-পাপঠ্যতে। এইরকমভাবে, নাচছে নৃত্যতি। কিন্তু খুব নাচছে-নরীনৃত্যতে।

কোন্ অর্থে সন্ প্রত্যয় প্রয়োগ করা হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: ইষ্ ধাতুর সমানকর্তৃক ধাতুর উত্তর সেই বিষয়ক ইচ্ছা বোঝালে সন্ প্রত্যয় প্রয়োগ করা হয়। যেমন- পঠিতুম্ ইচ্ছতি=পিপঠিষতি।

সন্ প্রত্যয় যোগে একটি উভয়পদী ধাতুর উদাহরণ দাও।

উত্তর: কৃ ধাতু একটি উভয়পদী ধাতু। তাই এর সঙ্গে সন্ প্রত্যয় যোগ করলে রূপ হয় চিকীর্ষতি/চিকীর্ষতে।

দৃশ্ ধাতুর সাথে সন্ প্রত্যয় যোগে শব্দগঠন করো।

উত্তর: দৃশ্ ধাতুর সাথে সন্ প্রত্যয় যোগে শব্দ হল- দিদৃক্ষতে।

সন্ প্রত্যয় প্রয়োগকালে কোন্ ধাতু কোন্ পদী হয়?

উত্তর: কয়েকটি ধাতুর ক্ষেত্র বাদ দিয়ে বাকি ধাতুগুলির ক্ষেত্রে যে ধাতু পরস্মৈপদী, সেই ধাতুর সঙ্গে সন্ প্রত্যয় যোগ করলে ধাতুটি পরস্মৈপদীই হয়। আবার, আত্মনেপদী ধাতুর সঙ্গে সন্ প্রত্যয় যোগ করলে ধাতুটি আত্মনেপদীই হয়।

অচেতন বিষয়ের ইচ্ছা বিষয়ে কোন্ প্রত্যয় হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: অচেতন বিষয়ের ইচ্ছা বিষয়ে সন্ প্রত্যয় হয়।যেমন- পিপতিষতি। নদীকূলং পিপতিষতি। মানে নদীকূল পতনোন্মুখ হচ্ছে।

যঙ্ ও সন্ প্রত্যয়ান্ত ধাতুর উদাহরণ দাও।

উত্তর: যঙ্ প্রত্যয়ান্ত একটি ধাতু হল-পাপঠ্য। সন্ প্রত্যয়ান্ত একটি ধাতু হল-পিপাস।

বালক+টাপ্-উত্তরসহ ব্যাখ্যাটি লেখো।

উত্তর: বালক+টাপ্=বালিকা। বালঃ এব=বালকঃ, এখানে বাল শব্দের সঙ্গে স্বার্থে কন্ প্রত্যয় হয়েছে। এর পরে টাপ্ (আ) প্রত্যয় হয়ে পাণিনি ব্যাকরণে একটি নিয়ম অনুসারে ক-এর পুরের অকারটি ই-কার হয়। তাহলে রূপ হল বালিকা।

ব্যাখ্যা করো: ‘তারকা, জ্যোতিষি’।

উত্তর: এটি একটি বার্তিক। এই বার্তিক বলছে যে, তু+ণ্বুল্(তারক)+টাপ্ এই অবস্থায় নক্ষত্র অর্থে র-কারের অকারটি ই-কার হয় না। তাহলে শব্দটি হয় তারকা। তারিকা নয়।

‘গোপালক’ শব্দটির লিঙ্গান্তর করে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়টি লেখো।

উত্তর: গোপালক শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গে টাপ্ প্রত্যয় যোগে হয় গোপালিকা।

এখানে গোঃ মানে গরুর পালক গোপালক। এখানে পালক শব্দে ণ্বুল্ (অক) প্রত্যয় হয়েছে।এবার বিশেষ নিয়মবশত টাপ্ প্রত্যয়ের যোগে ক-কারের আগে লকারের অ-কার ই-কার হয়ে শব্দটি হয় গোপালিকা।

ব্যাখ্যা করো: ‘ক্ষিপকাদীনাং চ ন’।

উত্তর: এটি একটি বার্তিক। সাধারণ নিয়ম হল স্ত্রীলিঙ্গবিহিত ‘টাপ্’ প্রত্যয় পরে থাকলে প্রত্যয়ের যে ক-কার তার পূর্ববর্তী অ-কার স্থানে ই-কার হয়। কিন্তু বার্তিক বলছে, ক্ষিপকা প্রভৃতি কয়েকটি শব্দের ক-এর পূর্ববর্তী অ-কার স্থানে ই-কার হয় না। যেমন- ক্ষিপকা, কন্যকা, চরকা, নন্দকা, অলকা ইত্যাদি।

দ্বিগু সমাসান্ত শব্দের উত্তর স্ত্রীলিঙ্গে কোন্ প্রত্যয় হয়?

উত্তর:দ্বিগু সমাসান্ত শব্দের উত্তর স্ত্রীলিঙ্গে ঙীপ্ প্রত্যয় হয়।যেমন- পঞ্চবটী।

ব্যাখ্যা করো: যঞশ্চ।

উত্তর: অপত্যার্থক যঞ্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের উত্তর স্ত্রীলিঙ্গে ঙীপ্ প্রত্যয় হয়। গর্গস্য অপত্যং স্ত্রী – গর্গ+যঞ্+ঙীপ্> গার্গ্য+ঙীপ্=গার্গী। এখানে ‘হলস্তদ্ধিতস্য’ সূত্রানুসারে য-কারের লোপ হয়। এইরকম আর একটি শব্দ হল- বাৎস্য+ঙীপ্=বাৎসী।

দুটি মতুপ প্রত্যয়ান্ত শব্দের উত্তর ভীপ্ প্রত্যয়ের প্রয়োগ করো।

উত্তর: শ্রী+মতুপ্=শ্রীমৎ। শ্রীমৎ+ঙীপ্=শ্রীমতী। বুদ্ধি+মতুপ্=বুদ্ধিমৎ। বুদ্ধিমৎ+ঙীপ্=বুদ্ধিমতী।

অর্থসহ উদাহরণ দাও: বয়সি প্রথমা

উত্তর: বৃদ্ধত্ব ভিন্ন বয়সবাচক অ-কারান্ত শব্দের উত্তর স্ত্রীলিঙ্গে ঙীপ্ প্রত্যয় হয়। যেমন, কুমার+ঙীপ্=কুমারী। তরুণ+ঙীপ্=তরুণী।

ঢক্ প্রত্যয়ান্ত দুটি শব্দের উত্তর ঙীপ্ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন করো।

উত্তর: রাধা+ঢক্=রাধেয়। রাধেয়+ঙীপ্=রাধেয়ী। বিনতা+ঢক্=বৈনতেয়। বৈনতেয়+ঙীপ্=বৈনতেয়ী।

অর্থের পার্থক্য লেখো:

কালা – কাল+টাপ্=কালা।মানে কৃষ্ণবর্ণা।

কালী – কাল+ঙীপ্=কালী।মানে দেবী কালিকা।

শময়তি – (মানে, শান্ত করে) কালং ক্রোধং শময়তি।

শাময়তি – (মানে, দেখে) বালকঃ চন্দ্রং নিশাময়তি।

সুন্দরী – শব্দটিতে ঙীপ্ প্রত্যয় আছে।অর্থ-রূপবতী নারী।দ্রৌপদী সুন্দরী আসীৎ।

সুন্দরা – শব্দটিতে টাপ্ প্রত্যয় আছে।অর্থ- সুন্দর বনভূমি।পুরা পঞ্চবটী সুন্দরা আসীৎ।

সম্রাজী – সম্রাটের পত্নী।

সম্রাজ্ঞী – নিজেই সম্রাটের সিংহাসনে আসীন।

সেবকা – সেবা শব্দের সঙ্গে স্বার্থে কন্ প্রত্যয় যোগ করে তার পর টাপ্ প্রত্যয় যোগ করে হয়ে সেবকা। মানে সেবা।

সেবিকা – সেব্ ধাতুর সঙ্গে খুল্ প্রত্যয় যোগ করে হয় সেবক, মানে সেবাকারী। এর পর টাপ্ প্রত্যয় যোগ করে, ব-এর অকারের ই-কার করে শব্দ হয়, সেবিকা। মানে সেবাকারিণী।

চলয়তি (মানে, কাঁপায়) বায়ুঃ পত্রং চলয়তি।

চালয়তি (মানে, বিকৃত করে) লোভঃ মতিং চালয়তি।

ভীষয়তে (মানে, নিজেই ভয় দেখাচ্ছে) সর্পঃ বালকং ভীষয়তে।

ভাষয়তি (মানে, কোনো কিছু দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে) সঃ দণ্ডেন বালকঃ ভাষয়তি।

পালয়তি (অদাদিগণীয় ধাতু পা, মানে, পালন করছে) রাজা

প্রজাঃ পালয়তি।

পায়য়তি (স্বাদিগণীয় ধাতু পা, মানে, পান করাচ্ছে) গোপালঃ গাং জলং পায়য়তি।

অষ্টকা – অষ্টক শব্দের পরে স্ত্রীলিঙ্গে টাপ্ প্রত্যয় হলে ‘ক্ষিপকাদীনাং চ’ এই বার্তিক অনুসারে ট-এর অকার ইকার হয় না। তাহলে শব্দটি হয় অষ্টকা। শব্দটির অর্থ পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন এই তিন মাসের কৃয়াষ্টমীতে কর্তব্য শ্রাদ্ধবিশেষ।

অষ্টিকা – অষ্ট সংখ্যার সমষ্টি বোঝাতে কন্ প্রত্যয়ে শব্দ হয় অষ্টক। এবার এর স্ত্রীলিঙ্গে টাপ্ প্রত্যয় হলে টকারের অকারের ইকার হয়ে শব্দটি হল অষ্টিকা। মানে আট-সংখ্যা-বিশিষ্টা।যেমন-অষ্টিকাঃ মূর্তয়ঃ।

ঘটয়তি – (ঘটায়) দৈবং সর্বং ঘটয়তি।

ঘাটয়তি – (বন্ধ করে) দৌবারিকঃ দ্বারং ঘাটয়তি।

দূষয়তি (খারাপ করে) প্রাবৃট্ জলং দূষয়তি।

দোষয়তি (চিত্তবিকার জন্মায়) লোভঃ চিত্তং দোষয়তি।

সমাস

ব্যাসবাক্য সহ সমাস নির্ণয় করোঃ

নীলোৎপলম্=নীলম্ উৎপলম্ (কর্মধারয় সমাস)

সৎপুরুষঃ=সন্ পুরুষঃ (কর্মধারয় সমাস)

পীতধবলঃ=পীতশ্চাসৌ ধবলশ্চেতি (কর্মধারয় সমাস)

কৃতাকৃতম্=কৃতঞ্চ তৎ অকৃতঞ্চ (কর্মধারয় সমাস)

চতুর্যুগম্= চতুর্ণাং যুগানাং সমাহারঃ (সমাহার দ্বিগু সমাস)

পঞ্চবটী=পঞ্চানাং বটানাং সমাহারঃ (সমাহার দ্বিগু সমাস)

ত্রিলোকী=ত্রয়াণাং লোকানাং সমাহারঃ (সমাহার দ্বিগু সমাস)

অষ্টাধ্যায়ী=অষ্টানাং অধ্যায়ানাং সমাহারঃ (সমাহার দ্বিগু সমাস)

পুণ্যপাপম্=পুণ্যং চ পাপং চ(সমাহার দ্বন্দ্ব সমাস)

মাতাপুত্রৌ=মাতা চ পুত্রশ্চ (ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস)

ধবখদিরৌ=ধবশ্চ খদিরশ্চ (ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস)

ক্ষণজন্মা=ক্ষণে জন্ম যস্য সঃ(বহুব্রীহি সমাস)

বীণাপাণিঃ=বীণা পানৌ যস্যাঃ সা (বহুব্রীহি সমাস)

পীতাম্বরঃ=পীতম্ অম্বরং যস্য সঃ (বহুব্রীহি সমাস)

বিশ্বামিত্রঃ=বিশ্বং মিত্রং যস্য সঃ (বহুব্রীহি সমাস)

সুন্দরভার্যঃ=সুন্দরী ভার্যা যস্য সঃ (বহুব্রীহি সমাস)

অধনঃ=অবিদ্যমানং ধনং যস্য সঃ (নঞ্ বহুব্রীহি সমাস)

সমাস বলতে কী বোঝ?

উত্তর: দুই বা তার বেশি পদের একপদ হয়ে যাওয়াকে বলে সমাস। যেমন-  বিদ্যায়াঃ আলয়ঃ=বিদ্যালয়ঃ। এখানে বিদ্যায়াঃ একটি পদ, আলয়ঃ একটি পদ। এরা একপদ হয়েছে=বিদ্যালয়ঃ।

সমাসের সঙ্গে সন্ধির পার্থক্য লেখো।

উত্তর: সন্ধি হল দুটি বর্ণের মিলন। আর, সমাস হল দুই বা ততোধিক পদের একার্থীভাব। যেমন- বিদ্যা আলয়ঃ=বিদ্যালয়ঃ। এখানে আ + আ = আ হয়েছে। আর, বিদ্যায়াঃ আলয়ঃ=বিদ্যালয়ঃ। এখানে দুটি পদের অর্থ একটি পদের দ্বারাই বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুটি পদ একটি পদে পরিণত হচ্ছে। এটি হল সমাস।

স্বপদবিগ্রহ বলতে কী বোঝ?

উত্তর: যখন সমাসের মধ্যস্থিত পদগুলি ব্যবহার করেই তার বিগ্রহবাক্য মানে ব্যাসবাক্য করা হয় সেই সমাসকে বলে স্বপদবিগ্রহ। যেমন-রাজপুরুষঃ। সমাসবদ্ধ পদটির বিগ্রহ হল রাজ্ঞঃ পুরুষঃ।এখানে সমাসের মধ্যস্থিত রাজন্(রাজ্ঞঃ)এবং পুরুষ(পুরুষঃ)এই পদ দুটি দ্বারা বিগ্রহ করা হয়েছে।তাই এই সমাসকে স্বপদবিগ্রহ সমাস বলা যায়।

কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদ দুটি কীরূপ বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়?

উত্তর: কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদ দুটি বিশেষ্য-বিশেষণভাবাপন্ন হয়। যেমন, নীলোৎপলম্। ব্যাসবাক্য হল- নীলম্ উৎপলম্। এখানে ‘নীলম্’ পদটি বিশেষণ এবং ‘উৎপলম্’ পদটি বিশেষ্য।

দ্বন্দ্ব সমাসের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: দ্বন্দ্ব সমাস দুরকম, ইতরেতর এবং সমাহার। (a) ইতরেতর দ্বন্দ্বে প্রতিটি পদের প্রাধান্য থাকে, এবং সাধারণত দ্বিবচনান্ত হয়। (b) সমাহার দ্বন্দ্বে সমাসবদ্ধ পদটি ক্লীবলিঙ্গের একবচন হয়।

সমাস গঠনের ক্ষেত্রে সমাসের দুটি সাধারণ নিয়ম লেখো।

উত্তর: (a) সমস্যমান পদগুলির বিভক্তিগুলির লোপ হয়। (b) একটি শব্দ তৈরি হয়ে যাওয়ার পরে তার উত্তর নতুন করে ‘সুপ্’ বিভক্তি যুক্ত হয়।

ব্যাসবাক্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: সমাসের অর্থবোধের জন্য সমস্যমান পদগুলিকে পৃথক করে যে বাক্য বলা হয় সেই বাক্যকে বলে ব্যাসবাক্য। এর অন্য নাম সমাসবাক্য বা বিগ্রহ। যেমন- বীণাপাণিঃ এই পদটির ব্যাসবাক্য হল বীণা পাণৌ যস্যাঃ সা।

অস্বপদবিগ্রহ কী? কর্মধারয় সমাসে অস্বপদবিগ্রহের উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমাস করতে গিয়ে সমস্যমান পদগুলি দিয়ে সমাসটির অর্থবোধ হয় না, অন্য পদ দিয়ে অর্থবোধ করানো হয়, সেই সমাসকে অস্বপদবিগ্রহ বলা হয়। কর্মধারয় সমাসে অস্বপদবিগ্রহের উদাহরণ হল, দেশান্তরম্। এখানে অন্যঃ দেশঃ  এইভাবে বিগ্রহ করা হয়।

পূর্বপদ কাকে বলে? কোন্ সমাসে পূর্বপদের অর্থের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়?

উত্তর: সমাসবদ্ধ পদের প্রথম পদটিকে পূর্বপদ বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়।

সমাসে পরপদ কাকে বলে? কোন্ সমাসে পরপদের প্রাধান্য দেখা যায়?

উত্তর: সমাসবদ্ধ পদের শেষের পদটিকে পরপদ বলে। তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়।

সমাসবদ্ধ পদের অপর নাম কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: সমাসবদ্ধ পদের অপর নাম ‘সমস্ত পদ’।যেমন-রাজ্ঞঃ পুরুষঃ, সমাস করে একটি পদ হল, রাজপুরুষঃ।এটি একটি ‘সমস্ত পদ’।

কর্মধারয় সমাস কাকে বলে?

উত্তর: যে তৎপুরুষ সমাসে সমস্যমান পদগুলি সমানাধিকরণ অর্থাৎ বিশেষ্য-বিশেষণ-ভাবাপন্ন হয় বা অভেদ সম্বন্ধে একার্থপ্রতিপাদক হয়, তাকে বলে কর্মধারয়।

“কিং ক্ষেপে” উদাহরণসহ অর্থ লেখো।

নিন্দা বোঝালে কিম্ শব্দের সঙ্গে কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, কুৎিসতঃ রাজা=কিংরাজা।

অর্থের পার্থক্য লেখো: কৃষ্ণসখঃ, কৃষ্ণসখা।

উত্তর: কৃষ্ণসখঃ – কৃষ্ণস্য সখা। এই ব্যাসবাক্যে তৎপুরুষ সমাসে সখা শব্দের পরে সমাসান্ত টচ্ প্রত্যয় হয়েছে। কৃষ্ণসখঃ মানে অর্জুন। কৃষ্ণসখা – কৃষ্ণঃ সখা যস্য সঃ। এই ব্যাসবাক্যে এখানে বহুব্রীহি সমাস করা হয়েছে। সমস্ত পদের মানে সখা (বন্ধু) কৃষ্ণ। এখানে সখিত্ব কৃষ্ণের ওপর পড়ছে।

দ্বিগু সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে কর্মধারয় সমাসে (বিশেষ্য-বিশেষণ-ভাবাপন্ন সমাস) পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক পদ হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন, পঞ্চানাং বটানাং সমাহারঃ=পঞ্চবটী।

দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমাসে পূর্বপদ এবং উত্তরপদ এই উভয় পদেরই অর্থ প্রধান তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অথবা সমাহার অর্থও প্রধান হয়। যেমন- হরিশ্চ হরশ্চ=হরিহরৌ। করৌ চ চরণৌ চ=করচরণম্।

ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসের দুটি উদাহরণ দাও।

ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসের দুটি উদাহরণ হল- হরিহরৌ, মাতাপিতরৌ।

ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: যেখানে পূর্বপদ ও উত্তরপদ এই উভয় পদেরই অর্থ প্রধান এবং সমস্তপদে দ্বিবচন হয় সেই সমাসকে ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন, হরিশ্চ হরশ্চ=হরিহরৌ।

সমাহার দ্বন্দ্ব সমাসের দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: সমাহার দ্বন্দ্ব সমাসের দুটি উদাহরণ হল- ধবখদিরৌ, মিত্রাবরুণৌ।

সমাস শব্দের ব্যুৎপত্তি কী?

উত্তর: সম্ + অস্ (দিবাদি) + ঘঞ্ = সমাস।

সমাস কখন হয়?

উত্তর: যখন দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্বন্ধ থাকে, তখন সমাস হয়।

‘সমস্তপদ’ কাকে বলে?

উত্তর: সমাসবদ্ধ পূর্বপদ ও উত্তরপদ নিয়ে গঠিত পদের নাম সমস্তপদ।

‘সমস্যমান পদ’ কাকে বলে?

উত্তর: সমাসে ব্যবহৃত প্রতিটি পদের নাম সমস্যমান পদ।

‘বিগ্রহবাক্য’ কী?

উত্তর: যে বাক্যে সমাসবদ্ধ শব্দের ব্যাখ্যা বা সম্প্রসারিত রূপ প্রকাশ পায়, তা বিগ্রহবাক্য।

পাণিনীয় সম্প্রদায় মতে সমাস কত প্রকার?

উত্তর: “সমাসশ্চতুর্বিধঃ”। অর্থাৎ, পাণিনীয় সম্প্রদায় মতে সমাস চার প্রকার। যথা- অব্যয়ীভাব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও দ্বন্দ্ব।

কর্মধারয় সমাস কয় ভাগে বিভক্ত ও কী কী?

উত্তর: “কর্মধারয়শ্চতুর্বিধঃ।” অর্থাৎ, কর্মধারয় সমাস চার ভাগে বিভক্ত – (a) উপমান কর্মধারয়, (b) উপমিত কর্মধারয়, (c) রূপক কর্মধারয় ও (d) উত্তরপদলোপী বা মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমাসে অন্য পদের অর্থ প্রধান হয় তাকে বহুব্রীহি সমাস হয়। অর্থাৎ যে যে পদগুলি নিয়ে সমাসটা হচ্ছে সেগুলির মধ্যে কোনোটির অর্থই প্রধান না হয়ে অন্য একটি পদের অর্থ প্রধান হয়, সেই সমাস হল বহুব্রীহি সমাস। যেমন, বীণাপাণিঃ। এখানে ব্যাসবাক্য হল বীণা পাণৌ যস্যাঃ সা।

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে?একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যে অবস্থিত পদদুটির বিভক্তি সমান হয় না, তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি বলে। যেমন- চন্দ্রঃ শেখরে যস্য সঃ = চন্দ্রশেখরঃ।

একটি বর্ণবাচক পদের সঙ্গে আর একটি বর্ণবাচক পদের কোন সমাস হয়?

উত্তর: কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন- নীলশ্চ স লোহিতশ্চ = নীললোহিতঃ।

সমাহার বোঝালে দ্বিগু সমাসে কোন্ লিঙ্গ হয়?

সমাহার বোঝালে দ্বিগু সমাস ক্লীবলিঙ্গ হয়।

দ্বন্দ্ব সমাসের প্রয়োগ কখন হয়?

উত্তর: যখন পূর্বপদ ও পরপদ – এই উভয় পদেরই অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় এখন দ্বন্দ্ব সমাসের প্রয়োস হয়।

দ্বন্দ্ব সমাসে ‘চ’ শব্দের অর্থ কী কী?

উত্তর: দ্বন্দ্ব সমাসে চ-এর চারটি অর্থ পাওয়া যায়, যথা- সমুচ্চয়, অন্বাচ্চয়, ইতরেতরযোগ ও দ্বন্দ্ব।

‘শেষো বহুব্রীহিঃ’ এটি কোন জাতীয় সূত্র? ‘শেষ’ শব্দের অর্থ কি?

উত্তর: ‘শেষো বহুব্রীহিঃ’ এটি একটি অধিকার সূত্র। শেষ বলতে প্রথমা বিভক্তি।

কারক

কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো।

বাতায় কপিলা বিদ্যুৎ – এখানে ‘বাতায়’ পদটিতে ‘উৎপাতেন জ্ঞাপিতে চ’ এই বার্তিকের দ্বারা চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

দরিদ্রঃ অন্নস্য হেতোঃ নগরে বসতি – ‘হেতো:’ শব্দের যোগে হেতুবোধক শব্দ অন্নস্য পদটিতে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়েছে।

রাজা দরিদ্রায় বস্ত্রং যচ্ছতি – ‘কর্মণা যমভিপ্রৈতি স সম্প্রদানম্’  সূত্রানুসারে দরিদ্রায় পদটি সম্প্রদান কারক ও সম্প্রদানে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

বালকঃ সাহিত্যে নিপুণঃ – ‘সাধু-নিপুণাভ্যামর্চায়াং সপ্তম্যপ্রতেঃ’ সূত্রানুসারে সপ্তমী বিভক্তি হয়।

রামাৎ পৃথক্ – ‘পৃথগ্‌-বিনা-নানাভিস্তৃতীয়ান্যতরস্যাম্’ সূত্রানুসারে পঞ্চমী বিভক্তি হয়েছে।

বীজাৎ অঙ্কুরো জায়তে – “জনিকর্তুঃ প্রকৃতিঃ” সূত্রানুসারে অপাদানে পঞ্চমী।

বৃক্ষাৎ ফলং পততি – ‘অপাদানে পঞ্চমী’ সূত্রানুসারে ‘বৃক্ষাৎ’ পদটিতে অপাদানে পঞ্চমী বিভক্তি হয়েছে।

রুদতঃ পুত্রস্য মাতা জগাম – “ষষ্ঠী চানাদরে” সূত্রানুসারে অনাদরে যষ্ঠী বিভক্তি।

বৃক্ষসেচনে দ্বে ধারয়সি মে – “ধারেরুত্তমর্ণঃ” সূত্রে সম্প্রদানে চতুর্থী।

দেবদত্তঃ যজ্ঞদত্তায় শতং ধারয়তি – “ধারেরুত্তমর্ণঃ” সূত্রে সম্প্রদানে চতুর্থী।

ইন্দ্রায় বষট্ – “নমঃ-স্বস্তি-স্বাহা স্বধালং-বষডযোগাচ্চ” সূত্রানুসারে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

আম্রং মহ্যং রোচতে – “রুচ্যর্থানাং প্রীয়মাণঃ” সূত্রানুসারে সম্প্রদান কারক ও তাতে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

প্রভুঃ ভৃত্যায় ক্রুধ্যতি – “ক্রুধদ্রুহের্ষ্যাসূয়ার্থানাং যং প্রতি কোপঃ” তার সম্প্রদান কারক ও তাতে চতুর্থী বিভক্তি।

নরঃ প্রতিদ্বন্দ্বিনে অসূয়তি – “ক্রুধদ্রুহের্ষ্যাসূয়ার্থানাং যং প্রতি কোপঃ” তার সম্প্রদান কারক ও তাতে চতুর্থী বিভক্তি।

ভৃত্যঃ রাজ্ঞে নিবেদয়তি – “ক্রিয়য়া যমভিপ্রৈতি সোহপি সম্প্রদানম্”  বার্তিক অনুসারে সম্প্রদান কারক ও তাতে চতুর্থী বিভক্তি।

বিপ্রায় গাং দদাতি – “ক্রিয়য়া যমভিপ্রৈতি স সম্প্রদানম্” সূত্র অনুসারে সম্প্রদান কারক ও তাতে চতুর্থী বিভক্তি।

উদাহরণ দাওঃ

নির্ধারণে সপ্তমী – কবিষু কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ / গোষু কৃষ্ণা বহুক্ষীরা

অবচ্ছেদে সপ্তমী – স কেশেষু ধৃতঃ / কর্ণে ধৃত্বা মাং প্রহরতি

অনাদরে সপ্তমী – রুদতি পুত্রে মাতা জগাম

কর্মে চতুর্থী – ফলেভ্যঃ যাতি

তুল্যার্থক শব্দযোগে ষষ্ঠী – রামস্য তুল্যঃ

কৃৎপ্রত্যয়ান্ত শব্দযোগে কর্মে ষষ্ঠী – চন্দ্রস্য দর্শনম্ / দুগ্ধস্য পানম্

কারক বলতে কী বোঝ?

উত্তর: ‘ক্রিয়ান্বয়ি কারকম্’ অর্থাৎ ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যস্থিত যে পদের সম্বন্ধ থাকে তাকে কারক বলে। যেমন, গুরুঃ শিষ্যং পৃচ্ছতি। এখানে ‘পৃচ্ছতি’ মানে জিজ্ঞাসা করছে। কে জিজ্ঞাসা করছে এই প্রশ্ন করলে ‘গুরুঃ’ এই উত্তর পাওয়া যায়। এর দ্বারা বোঝা যায়, গুরুঃ পদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের একটা সম্বন্ধ আছে। এইরকম শিষ্যং পদটির ক্ষেত্রেও। তাই গুরুঃ এবং শিষ্যং প্রত্যেকটিই হল কারক।

বিভক্তি কাকে বলে? বিভক্তি কতপ্রকার?

উত্তর: ‘সংখ্যা-কারক-বোধয়িত্রী বিভক্তিঃ’ অর্থাৎ যার দ্বারা সংখ্যা ও কারকের বোধ হয় তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি সাতটি প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং সপ্তমী।

সম্বন্ধপদ ও সম্বোধন পদে কোন্ বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়?

উত্তর: সম্বন্ধপদে ষষ্ঠী বিভক্তি প্রয়োগ করা হয় আর সম্বোধন পদে প্রথমা বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়।

সামান্য ইপ্সিত বোঝালে কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: সামান্য ইপ্সিত বোঝালে সম্প্রদান কারক হয়। সূত্র আছে-‘স্পৃহেরীপ্সীতঃ’। সম্প্রদানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। উদাহরণ- বলিকা পুষ্পেভ্য: স্পৃহয়তি।

স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে ইপ্সিততম বোঝালে কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে ইঙ্গিততম বোঝালে কর্ম কারক হয়। এ নিয়ে পাণিনি সূত্র করেছেন, “কর্তৃরীন্সিততমং কর্ম”। যেমন- বালিকা পুষ্পং স্পৃহয়তি। এখানে মানে বোঝাচ্ছে এই যে, বালিকাটি একান্তভাবে ফুল চাইছে। তাই পুষ্প কর্মকারক হয়েছে। আর কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

সম্বোধন পদ ও সম্বন্ধ পদ কারক নয় কেন?

উত্তর: সম্বোধন পদ ও সম্বন্ধ পদের সঙ্গে ক্রিয়ার সম্বন্ধ থাকে না বলে এই দুটি পদ কারক হয় না।

কারক কতপ্রকার ও কী কী?

উত্তর: কারক ছ-প্রকার। কর্তৃ কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক এবং অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে কোন্ বিভক্তি হয়, উদাহরণ-সহ লেখো।

উত্তর: অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়। যেমন, ব্যাঘ্রঃ বনে বসতি। শিশুঃ শয্যায়াং শেতে। অধিকরণ মানে আধার। এখানে বন হল বসতি-র আধার এবং শয্যা হল শেতের আধার। তাই অধিকরণ কারক। নিয়ম অনুসারে বনে এবং শয্যায়াং পদে সপ্তমী বিভক্তি হয়েছে।

আচ্ ও আহি প্রত্যয়যুক্ত শব্দের প্রয়োগে পঞ্চমী বিভক্তির প্রয়োগ দেখাও।

উত্তর: আচ্-যুক্ত একটি পদ হল দক্ষিণা। তাহলে এই পদের প্রয়োগে পঞ্চমী বিভক্তি হবে। যেমন, দক্ষিণা সমুদ্রাৎ। আহি-যুক্ত একটি পদ হল উত্তরাহি। এই পদের প্রয়োগে পঞ্চমী বিভক্তি হবে। যেমন, উত্তরাহি দেশাৎ। এখানে সমুদ্রাৎ এবং দেশাৎ পদে পঞ্চমী বিভক্তি আছে।

একজাতীয় বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ বোঝালে কোন্ বিভক্তি হয়। উদাহরণ-সহ লেখো।

উত্তর: একজাতীয় বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ বোঝালে যষ্ঠী এবং সপ্তমী বিভক্তি হয়। যেমন, কবিষু কবিনাং বা কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ।

নিমিত্তার্থে সপ্তমী বিষয়ক সূত্রটি উদাহরণ-সহ লেখো।

উত্তর: নিমিত্তার্থে সপ্তমী বিষয়ক সূত্রটি হল- নিমিত্তাৎ কর্মযোগে। বস্তুত এটি বার্তিক। উদাহরণ, চর্মণি দ্বীপিনং হস্তি।

রুচ্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে কোন কারক হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: রুচ্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে সম্প্রদান কারক হয়। উদাহরণ- আম্রং মহ্যং রোচতে।

একজাতীয় বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ বোঝালে কোন কোন বিভক্তি হয়?

উত্তর: একজাতীয় বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ বোঝালে ষষ্ঠী ও সপ্তমী বিভক্তি হয়।

বারণার্থক ধাতুর প্রযোগে অপাদান কারকের দুটি উদাহরণ লেখো।

উত্তর: বারণার্থক ধাতুর প্রযোগে অপাদান কারকের দুটি উদাহরণ হল- যবেভ্যো গাং বারয়তি ও অন্নেভ্যঃ কাকং নিবারয়তি।

পৃথক্ ও বিনা শব্দযোগে পঞ্চমী বিভক্তির একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর: পৃথক্ শব্দযোগে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ হল- রামাৎ পৃথক্ লক্ষ্মণ:। এবং বিনা শব্দযোগে পানী বিভক্তির উদাহরণ হল- শ্রমাৎ বিনা বিদ্যা ন ভবতি।

দুই ভিন্নতর পদার্থের মধ্যে একটির উৎকর্ষ বোঝাতে কোন বিভক্তি হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: দুই ভিন্নতর পদার্থের মধ্যে একটির উৎকর্ষ বোঝাতে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যথা- ধনাৎ বিদ্যা গরীয়সী।

সম্বন্ধ বা শেষ বোঝাতে কোন বিভক্তি হয়? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: সম্বন্ধ বা শেষ বোঝাতে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়।যেমন- রাজ্ঞঃ পুরুষঃ।

ব্যাকরণে আধার কয় প্রকার ও কী কী?

উত্তর: ব্যাকরণে আধার তিন প্রকার। যথা- ঔপশ্লেষিক, বৈষয়িক ও অভিব্যাপক।

নিমিত্তার্থে সপ্তমী বিধায়ক সূত্রটি উদাহরণ সহ লেখো।

উত্তর: নিমিত্তার্থে সপ্তমী বিধায়ক সূত্রটি হল- “নিমিত্তাৎ কর্মযোগে”। যেমন- চর্মনি দ্বীপিনং হন্তি।

প্রতি-পূর্বক শ্রু ধাতুর প্রয়োগে যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি দিতে প্রবৃত্ত করে সে কোন কারক হয়?

উত্তর: প্রতি-পূর্বক শ্রু ধাতুর প্রয়োগে যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি দিতে প্রবৃত্ত করে সে সম্প্রদান কারক হয়। যেমন- ধনিক: দরিদ্রায় ধনং প্রতিশৃণোতি।

‘নমস্’ শব্দযোগে কোন বিভক্তি হয়? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: নমস্ শব্দযোগে চতুর্থী বিভক্তি হয়। উদাহরণ- শিবায় নমঃ।

জুগুপ্সা, বিরাম, প্রমাদার্থক ধাতুযোগে কোন কারক হয়? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: জুগুপ্সা, বিরাম, প্রমাদার্থক ধাতুযোগে অপাদান কারক হয়। যেমন- রামঃ পাপাৎ জুগুপ্সতে।

অন্তিকার্থক শব্দযোগে ষষ্ঠী বিভক্তির উদাহরণ লেখো।

উত্তর: অন্তিকার্থক শব্দযোগে ষষ্ঠী বিভক্তির উদাহরণ হল- অন্তিকং গ্রামস্য এবং অন্তিকং বিদ্যালয়স্য শিক্ষকঃ অতিষ্ঠৎ।

অর্থের পার্থক্য লেখো:

অলং ভোজনেন – নিষেধার্থক অলং শব্দযোগে তৃতীয়া। মানে ভোজনের দরকার নেই।

অলং ভোজনায় – সমর্থার্থক অলং শব্দযোগে চতুর্থী। মানে ভোজনে সমর্থ।

পুষ্পাণি স্পৃহয়তি – কর্তার ঈপ্সিততম পুষ্প কর্মকারক। কর্মে দ্বিতীয়া। মানে, অত্যন্তভাবে স্পৃহা করছে।

পুষ্পেভ্যঃ স্পৃহয়তি – স্পৃহ্ ধাতুর যোগে সাধারণভাবে স্পৃহনীয় বস্তু পুষ্প সম্প্রদান কারক। সম্প্রদানে চতুর্থী। মানে, সাধারণভাবে চাইছে, এইমাত্র।

Leave a Comment