2nd Semester Sanskrit Notes Book and Suggestion PDF Download

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছে 2nd Semester Sanskrit Notes Book and Suggestion PDF Download করুণ। সংস্কৃত বিষয় অনেকের কাছে কঠিন মনে হলেও সঠিক নোটস এবং সাজেশন থাকলে সহজেই ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।

Table of Contents

Class XI 2nd Semester Sanskrit Suggestion PDF Download

একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত বড় প্রশ্ন উত্তর সাজেশন 2026

একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত সাজেশন 2026 প্রতিজ্ঞাসাধনম্ গদ্যাংশ থেকে

(পূর্ণমান-5)

প্রশ্নঃ “কার্যং বা সাধয়েয়ং, দেহং বা পাতয়েয়ম্। তাৎপর্য্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ– আলোচ্য প্রতিজ্ঞাবাক্যটি পণ্ডিত অম্বিকাদত্তব্যাস রচিত ‘শিবরাজবিজয়ম্’ ঐতিহাসিক উপন্যাস বা গদ্যকাব্যের অন্তর্গত ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ পাঠ্যাংশ থেকে গৃহীত।

শিববীরের একজন সেবক শ্রী রঘুবীর সিংহ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ চিঠি নিয়ে অনেক কষ্ট করে ঘোড়ায় চড়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে যাচ্ছিল। আষাঢ় মাসের সন্ধ্যাবেলায় প্রচণ্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাত্র ষোল বৎসর বয়সী সৌমদর্শন যুবকটি যে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রভুর আদেশ পালন করেছে তার পরিচয় বহন করছে উক্ত বাক্যটি- “কার্যং বা সাধয়েয়ম্, দেহং বা পাতয়েয়ম্।” অর্থাৎ কার্য সম্পন্ন করব অথবা শরীর নষ্ট করব।

যে কোনো সাফল্যের মূল মন্ত্র হল-দুর্দমনীয় ইচ্ছাশক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম। কারণ “উদ্যমেন হি সিদ্ধন্তি কার্যাণি, ন মনোরথৈঃ।” শুধুমাত্র ইচ্ছা হলেই কাজ সম্পূর্ণ হয় না, তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যম বা উদ্যোগ আবশ্যক। প্রতিজ্ঞাপরায়ণ পরিশ্রমী ব্যক্তিই নির্ভরযোগ্য হন। আত্মবিশ্বাসী, একনিষ্ঠ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিই সাফল্যের শিখরে পৌঁছান। ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ পাঠ্যাংশে এরকমই একজন দৃঢ় চরিত্রের যুবক রঘুবীর সিংহ। যে নিরলসভাবে কর্তব্যপরায়ণ হয়ে একনিষ্ঠ, ধৈর্যশীল, অকুতোভয় চিত্তে শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও নিজকাজে বিরত হয়নি উপরন্তু প্রাণ তুচ্ছ করে প্রভুর আদেশ পালন করার প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছে।

বলা বাহুল্য এই চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণেই ছত্রপতি শিবাজীর প্রধান সহায়ক হিসাবে তার নাম ইতিহাসের পাতায় বা ঐতিহাসিক গদ্যকাব্যে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়েছে।

প্রশ্নঃ ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ গদ্যাংশ অবলম্বনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ– ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ গদ্যাংশটি পণ্ডিত অম্বিকা দত্তব্যাস রচিত ‘শিবরাজবিজয়ম’ ঐতিহাসিক উপন্যাসের অংশবিশেষ। দৌত্যকর্মে নিযুক্ত শিবাজীর বিশ্বস্ত পাত্র রঘুবীর সিংহের প্রতিজ্ঞাপূরণ প্রসঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বর্ণিত হয়েছে।

 আকাশে দুর্যোগের পূর্বাভাস

শিববীর বা শিবাজীর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি নিয়ে তাঁর সেবক শ্রী রঘুবীর সিংহ ঘোড়ায় চড়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদূর্গে যাত্রা শুরু করে। আষাঢ় মাস এবং সময় সন্ধ্যা। ভগবান সূর্য অস্ত যেতে ইচ্ছুক হয়ে যেন সিন্দুরগোলাজলে স্নান করে পশ্চিমদিকে উপস্থিত লাল মেঘেদের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। চড়ুই পাখিরা বাসায় ফিরে যাচ্ছে। বনগুলি প্রত্যেক মুহূর্তে বেশি বেশি কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করছে। তারপর হঠাৎ চতুর্দিকে মেঘগুলি পর্বতশ্রেণির মতো আবির্ভূত হয়ে সমগ্র আকাশকে আচ্ছাদিত করল- “অথ অকস্মাৎ পরিতো মেঘমালা পর্বতশ্রেণিরিব প্রাদুর্ভূয় সমস্তং গগনতলং প্রাবৃণোৎ।”

পাহাড়ে দুর্যোগ

রঘুবীর সিংহ যখন পর্বতশ্রেণির উপরে উপরে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ আরম্ভ হল প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস। একেই সন্ধ্যাবেলার উপযুক্ত স্বাভাবিক অন্ধকার তাও আবার মেঘমালার দ্বারা দ্বিগুণ হয়েছে। ঝড়ে ওঠা ধূলোর দ্বারা, পুরাতন খসে যাওয়া পাতাগুলির দ্বারা, ফুলের রেণুগুলির দ্বারা অন্ধকার পুনরায় দ্বিগুণ বেড়ে গেল-“ঝঞ্ঝাবাতোস্পৃতৈঃ রেণুভিঃ শীর্ণপত্রৈঃ কুসুমপরাগৈঃ শুল্কেপুষ্পৈশ্চ পুনরেষ দ্বৈগুণ্যং প্রাপ্তঃ।” এখানে পর্বতশ্রেণি থেকে পর্বতশ্রেণিগুলি, বন থেকে বনগুলি, শিখর থেকে শিখরগুলি, ঝরনা থেকে ঝরনাগুলি, অধিত্যকা থেকে অধিত্যকাগুলি, উপত্যকা থেকে উপত্যকাগুলি অবস্থিত। কোনো সরল রাস্তা নেই, রাস্তা দেখাও যাচ্ছে না। ঘোড়ার খুরগুলি মসৃণ পাথরে বারবার পিছলে যাচ্ছে। স্থানে স্থানে কম্পমান গাছের ডালগুলি সামনের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে।

বিদ্যুতের শাসন

যখন একদিকে চোখদুটিকে বিক্ষিপ্ত করে, কান দুটো ফাটিয়ে, দর্শকদের কাঁপিয়ে দিয়ে, আকাশকে কাটতে কাটতে, মেঘগুলিকে সোনার তীক্ষ্ণ অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে করতে, অন্ধকারকে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে তখন অন্যদিকেও জ্যোতিসমূহের দ্বারা মেঘগুলিকে আচ্ছাদিত করছে। চমকানির পর চমকানি, গর্জনের পর গর্জন। শতাধিক বন্দুক জাতীয় অস্ত্র চালনায় উৎপন্ন শব্দের মতো প্রচণ্ড শব্দের দ্বারা সেই মহান অরণ্য পরিপূর্ণ হয়েছিল।

লেখকের সুনিপুন বর্ণনায় ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের বাস্তব অনুভূতিগুলি জাগিয়ে তোলে।

একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত সাজেশন 2026 ঋতুচর্যা পদ্যাংশ থেকে

(পূর্ণমান-5)

প্রশ্নঃ ‘ঋতুচর্যা’ পাঠ্যাংশের সংক্ষিপ্তসার লেখো।

উত্তরঃ– ঋতু প্রকৃতির গতি অনুসারে দৈনিক জীবনশৈলী এবং খাদ্যাভ্যাস সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে যে-কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। ‘ঋতুচর্যা’ পাঠ্যাংশে হেমন্ত, শিশির, বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরৎ-এই ছয় ঋতুতে প্রতিপালনীয় সঠিক নিয়মাবলির বিবরণ রয়েছে।

হেমন্ত

যে ব্যক্তি হেমন্ত ঋতুতে দুগ্ধজাত দ্রব্য, আখের রস থেকে উৎপন্ন গুড় প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্য; ঘি, তৈলাক্ত খাদ্য, নতুন চাল এবং গরম জল খাওয়ার নিয়মিত অভ্যাস করে, তার জীবনকাল কখনোই হ্রাস পায় না। শীতকাল আসন্ন হওয়ার কারণে এই সময় আমাদের হালকা, বায়ু-কফ উৎপন্নকারী খাদ্য-পানীয় এবং খোলা হাওয়ায় থাকা, ছাতুর শরবত খাওয়াও বর্জন করা উচিত। এই সময় কম খাওয়ার বদলে বেশি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

শিশির

হেমন্ত ও শিশির অনেকটা একই ধরনের ঋতু হওয়ায় হেমন্তকালের বিধিনিষেধগুলি শীতকালেও অনুসরণযোগ্য। তবে শিশিরে হেমন্ত অপেক্ষা কিছু অধিক রুক্ষতা ও শুষ্ক শৈত্য লক্ষ করা যায়। তাই এই সময় ঝাল, তেতো, কষাটে খাবার এবং বায়ু উৎপন্নকারী হালকা ও ঠান্ডা খাদ্য-পানীয় বর্জন করা উচিত। এ ছাড়া শিশিরে অধিকতর গরম এবং বায়ুশূন্য ঘরে বসবাস করা অধিক উপযুক্ত।

বসন্ত

শীতকালের জমে থাকা সর্দি বসন্তকালে সূর্যের তাপে বেড়ে গিয়ে শরীরের খিদে নষ্ট করে দেয় এবং বহুবিধ রোগ উৎপন্ন করে। তাই এই সময় বমন ইত্যাদি কার্য এবং দিবানিদ্রা পরিত্যাগের মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ রাখতে হয়। খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে ভারী, টকজাতীয়, তৈলাক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাদ্য-পানীয় সর্বতোভাবে বর্জন করতে হবে।

গ্রীষ্ম

গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপ জগতের সমস্ত আর্দ্রভাব বারংবার শোষণের মাধ্যমে শুল্ক করে দেয়। তাই এই সময় সুস্বাদু, শীতল, তৈলাক্ত এবং জলীয় খাদ্য-পানীয় সেবন হিতকর বলে মনে করা হয়। গ্রীষ্মকালে দুধ, ঘি এবং শালি ধানের অন্ন যে ভোজন করে সে সতেজ থাকে। অপরপক্ষে এই সময় লবণযুক্ত, টকজাতীয়, ঝাঁজালো ও গরম খাদ্য-পানীয় এবং অতিরিক্ত ব্যায়াম হানিকারক তথা বর্জনীয়।

বর্ষা

বর্ষাকালে মাটি থেকে বাষ্প ওঠে, বৃষ্টি হয় এবং জলে অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়। বর্ষার ঠান্ডায় খিদে কম হওয়ার কারণে বায়ুরোগের প্রকোপ হয়। তাই এই সময় সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে টক, নোনতা ও তেলজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।

শরৎ

বর্ষার শীতে অভ্যস্ত শরীর হঠাৎ শরতের সূর্যরশ্মির তাপে গরম হলে শরীরে জমে থাকা পিত্তের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। ফলে শরৎকালে মিষ্টি, হালকা, ঠান্ডা, তেতো এবং পিত্তপ্রশমনকারী খাবার সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করা উচিত। শরৎকালে সাদা ফুলের মাল্যধারণ, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং সন্ধ্যায় চাঁদের কিরণের সংস্পর্শে আসা খুব উপকারী।

একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত সাজেশন 2026 দানবীরঃ কর্ণঃ নাট্যাংশ থেকে

(পূর্ণমান-5)

প্রশ্নঃ ‘शक्रः खलु मया वञ्चितः’ শত্রু কে? বক্তা কেন এমনটি মনে করেন? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও। অথবা, “শত্রুঃ খলু ময়া বঞ্চিতঃ” মন্তব্যটির তাৎপর্য কী?

উত্তরঃ– শত্রু হলেন ইন্দ্র। এখানে ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশধারী ইন্দ্র।

ইন্দ্র ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ ধারণ করে কর্ণের কবচকুণ্ডল ভিক্ষা করতে আসেন। কর্ণ প্রার্থীর মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। কিন্তু একে কর্ণের সারথি বলেন যে, কর্ণ ইন্দ্রের ছলনায় প্রতারিত হলেন। কর্ণ কিন্তু বলেন, ইন্দ্রই প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত হয়েছেন। কারণ, কর্ণ দানবীর। যে ইন্দ্রকে তুষ্ট করার জন্য ব্রাহ্মণেরা অনবরত যজ্ঞ করেন, অর্জুন যাঁর পুত্র, যিনি দৈত্যকুল ধ্বংসকারী মহাক্ষমতার অধিকারী, তাঁকেই আজ প্রার্থীরূপে কর্ণের কাছে আসতে হয়েছে। সেই প্রার্থীকে কর্ণ অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং ইন্দ্রই প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত হয়েছেন। দেবরাজ হয়েও তিনি মর্ত্যলোকবাসী কর্ণের কাছে মর্যাদা হারিয়েছেন।

প্রশ্নঃ “শিক্ষা ক্ষয়ং গচ্ছতি কালপর্যয়াৎ”-কে এই কথা বলেছিলেন? বাক্যটির অর্থ ব্যাখ্যা করো। অথবা, প্রসঙ্গ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা করো- “शिक्षा क्षयंगच्छति कालपर्ययात्।”

উত্তরঃ– ‘দানবীরঃ কর্ণঃ’ নাট্যাংশে কর্ণ এই কথা বলেছিলেন।

এই বিশ্বে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। জীবন, যৌবন, চিত্ত, বিত্ত যা কিছু আজ প্রাণবন্ত আগামী দিনে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তাই কবি বলেছেন-“চলচ্চিত্তং চলদ্বিত্তং চলজ্জীবন-যৌবনম্।” কালের গতির কাছে সব কিছুই হার মানে। যে বিদ্যাকে মহাধন বলা হয়, সেটিও কালক্রমে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বহু শ্রমে অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে বিদ্যা অর্জন করতে হয়। এই বিদ্যা মানুষের নানা উপকার সাধন করে। কিন্তু দেখা যায় কোনো বিশেষ বিদ্যাটি কালক্রমে তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। অথবা চর্চার অভাবে কোনো বিদ্যা মন ও মস্তিষ্ক থেকে একেবারে মুছে যায়। এইভাবেই কালক্রমে বিদ্যাক্ষয়ের কথা বলা হয়েছে।

এই রকম বিনাশশীল জগতে হোম ও দানের পুণ্যফলই অক্ষয়। তার দ্বারাই কর্ণ বেঁচে থাকতে চান। বিনাশশীল অস্ত্রবিদ্যা তাঁকে আকর্ষণ করে না।

প্রশ্নঃ নাট্যাংশ অবলম্বনে কর্ণের চারিত্রিক গুণাবলির পরিচয় দাও। / অথবা, কর্ণের চরিত্রবৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। / অথবা, কর্ণের চরিত্রের মহত্ত্বের পরিচয় দাও।

উত্তরঃ– ভরতবংশীয় নৃপতিগণের সুদীর্ঘ কাহিনি অবলম্বনে রচিত মহাকাব্য মহাভারতে যেসব চরিত্র স্বমহিমায় ভাস্কর, কর্ণ চরিত্রটি তাদের মধ্যে অন্যতম। কল্পনার রঙে ও রসে নাট্যপ্রতিভার জাদুস্পর্শে নাট্যকার ভাস ‘দানবীরঃ কর্ণঃ’ নাট্যাংশের কর্ণ চরিত্রকে দানশীলতা, পৌরুষেয়তা, শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রভৃতি গুণাবলিতে আরও সমুজ্জ্বল করেছেন।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যঃ
বলশালী পৌরুষেয়

‘সূতপুত্র’, ‘রাধার নন্দন’ অর্থাৎ ‘রাধেয়’ বলে পরিচিত কর্ণ ছিলেন বংশমর্যাদার গৌরব ও গর্ব থেকে চিরবঞ্চিত। তার জীবনে চলার মন্ত্রই হল- ‘দৈবায়ত্তং কুলে জন্ম মদায়ত্তং তু পৌরুষম্’। প্রার্থীর প্রার্থনা পূরণে তিনি পৃথিবী জয় করে দিতেও প্রস্তুত। দেব-দ্বিজে অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা, আত্মশক্তিতে দৃঢ়চেতা, বলশালী পৌরুষেয়ের মূর্ত বিগ্রহ হলেন কর্ণ।

প্রজানুরঞ্জক রাজা

কর্ণ হলেন আদর্শ রাজা। ‘প্রজাপালনমাত্রবুদ্ধ্যা’ এই বাক্যাংশটিতে তাঁর রাজাদর্শ উদ্ভাসিত। রাজার প্রধান ধর্মই হল প্রজাপালন। তাই কর্ণ ইন্দ্রের করা আশীর্বাদকে যথার্থ মনে করেছিলেন।

যশস্বী

তিনি ছিলেন যশস্বী। ‘হতেষু দেহেবু গুণা ধরস্তে’- এ কথা কর্ণ জানতেন। দেহনাশে ক্ষতি নেই, গুণার্জিত যশোলাভই ছিল দানবীর কর্ণের কাম্য। তাই তিনি ইন্দ্রের করা ‘যশস্বী’ হওয়ার আশীর্বাদ যথার্থ মনে করেছেন।

বিনম্রতা

নাট্যাংশের সূচনাতেই ভিক্ষাপ্রার্থী ব্রাহ্মণকে ‘অহমেব আহ্বয়ামি’ বলে কর্ণ অভ্যর্থনা করতে এগিয়ে আসেন। এখানে তার পরম বিনয় সুন্দরভাবে পরিলক্ষিত হয়।

দানশীল রাজা

কর্ণের চরিত্রের শ্রেষ্ঠতম বৈশিষ্ট্য হল দানশীলতা ও বদান্যতা। ‘হুতং চ দত্তং চ তথৈব তিষ্ঠতি’- এই ছিল তার জীবনের মূলমন্ত্র। নিজের জীবনকে সানন্দে দান করেও দানের মর্যাদা রক্ষা করেন, প্রকৃতই তিনি দানবীর।

পরিশেষে বলা যায় কর্ণ বীর, বিনয়ী, দাতা। মনুষ্য হয়েও চরিত্রমাহাত্ম্যে তিনি দেবত্বে উন্নীত হয়েছেন। মহৎ গুণের দ্বারা তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছেন।

একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত সাজেশন 2026 সাহিত্যের ইতিহাস থেকে

(পূর্ণমান-4)

প্রশ্নঃ সমাজজীবনে মহাভারতের প্রভাব লেখো।

উত্তরঃ– মহাভারত গ্রন্থ ভারতীয় মনীষার উৎকর্ষের এক চরম নিদর্শন। এর বিষয়বস্তুর গাম্ভীর্য, জটিল চরিত্রচিত্রণ, সমাজদর্শন ভারতীয় জাতির কাছে এক চিরন্তন সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে। সুতরাং এখানে কোনো সন্দেহই থাকে না যে, এই গ্রন্থ ভারতীয় সমাজ ও সাহিত্যকে যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে। আমরা এখানে নিম্নরূপে সেই প্রভাবের কথা সংক্ষেপে অলোচনা করতে পারি।

 ভারতীয় সমাজে মহাভারতের প্রভাব

ভারতীয় সমাজে মহাভারতের প্রভাব অপরিসীম। যদিও সেই প্রাচীন সমাজই ধীরে ধীরে আধুনিক সমাজে রূপান্তরিত হয়েছে, তবুও মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের গুণগুলি ভারতীয়গণ নিজেদের জীবনে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ভীষ্মের আত্মত্যাগ, কর্ণের দানশীলতা, যুধিষ্ঠিরের সত্যনিষ্ঠা, ভীমাদি পান্ডবদের জ্যেষ্ঠের প্রতি আনুগত্য, দ্রৌপদীর তেজস্বিতা, বিদুরের ন্যায়পরায়ণতা এবং আরও বিভিন্ন নীতিগর্ত কাহিনি, বীরগাথা ভারতীয় সমাজ শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। এইসব গাথা ও কাহিনি যেমন ভারতবাসীর নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়েছে, তেমনি সেগুলিকে উপজীব্য করে যে সাহিত্যসম্ভার গড়ে উঠেছে সেগুলিও অল্পবিস্তর একইভাবে ভারতীয় সমাজের ভিত্তিভূমি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

              যখন নারী, শূদ্র এবং দ্বিজাচারশূন্য ব্রাহ্মণরা বেদপাঠে বঞ্চিত ছিল, তখন মহাভারত গ্রন্থখানি তাদের কাছে ছিল বেদস্বরূপ। ধর্মীয় বিধিনিষেধ অতিক্রম করে সর্বাধিকার প্রদান করেছিল মহাভারত।

প্রশ্নঃ মহাভারতের রচনাকাল সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ- মহাভারতের রচনাকাল সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত প্রচলিত আছে-

রচনাকাল
খ্রিস্টপূর্ব দশম শতকের সাপেক্ষে যুক্তি

ম্যাক্ ডোনেলের মতে, মহাভারতের রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব দশম শতকের পরবর্তী হতে পারে না, কারণ যজুর্বেদে কুরু ও পাঞ্চাল এই দুই রাজবংশ মিলিত হতে দেখা যায়।

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের সাপেক্ষে যুক্তি

আশ্বলায়নের ‘গৃহ্যসূত্র’ এবং বৌধায়নের ‘ধর্মসূত্র’ -এ মহাভারতের উল্লেখ পাওয়ায় এর রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের দিকে নির্দেশ করে।

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শভাকর সাপেক্ষে যুক্তি

মহাভারতে শিব এবং বিয়ুর প্রাধান্য দেখা যায়। মেগাস্থিনিসের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকেই শৈব এবং বৈয়ব ধর্মের প্রভূত উন্নতি ঘটেছিল।

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের সাপেক্ষে যুক্তি

পতঞ্জলির ‘মহাভাষ্য’-এ কুরু-পাণ্ডবের উল্লেখ থাকায় মহাভারতের রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক বলে মনে করা হয়।

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাকর সাপেক্ষে যুক্তি

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের নানা শিলালিপি ও প্রত্নলিপিতে মহাভারতের শ্লোকের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।

খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম-অষ্টম শতাকর সাপেক্ষে যুক্তি

দার্শনিক কুমারিল ভট্টের উদ্ধৃতি থেকে এবং 650 খ্রিস্টাব্দে আবির্ভূত সুবন্ধু ও বাণভট্টের মুখে মহাভারতের কথা জানা যায়। ফলে এর রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম-অষ্টম শতক বলে মনে করা হয়।

উপরোক্ত প্রমাণগুলি থেকে অনুমান করা যায় যে, বর্তমান আয়তনের মহাভারত খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকের মধ্যবর্তী কালে রচিত হয়েছিল।

প্রশ্নঃ কালিদাসের ‘মেঘদূত’ কাব্যের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। / অথবা, ‘মেঘদূত’ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ– কবি কালিদাস লিখিত সংস্কৃত সাহিত্যের এক অনবদ্য প্রেমমূলক গীতিকাব্য হল ‘মেঘদূত’। গ্রন্থটিতে দুটি ভাগ আছে – পূর্বমেঘ ও উত্তরমেঘ। গ্রন্থটির শ্লোকসংখ্যা মোটামুটি 118 টি এবং শ্লোকগুলি মন্দাক্রান্তা ছন্দে লিখিত।

অলকার অধিপতি কুবেরের ভৃত্য যক্ষ কর্তব্যে অবহেলা করার জন্য কুবেরেরই অভিশাপে এক বছরের জন্য কৈলাস থেকে রামগিরি পর্বতে নির্বাসিত হয়। বর্ষার আগমনে আকাশে মেঘ দেখে তার মনে জেগে ওঠে প্রিয়ার কাছে বার্তা পাঠাবার বাসনা। কামার্ত যক্ষ চেতন-অচেতনের ভেদ ভুলে মেঘকেই দূত করে পাঠাতে মনস্থ করে।

তারপর তাকে রামিগিরি থেকে অলকা পর্যন্ত সুদীর্ঘ পথের নির্দেশ দেয়। বেরা, দশার্ণ, বিদিশা, বেত্রবর্তী, উজ্জয়িনী প্রভৃতির বর্ণনা রয়েছে এখানে। এইসব নিয়েই পূর্বমেঘ শেষ হয়। এবার অলকায় গিয়ে মেঘ কী কী দেখবে, যক্ষের প্রিয়াকে চিনবে কীভাবে-সেই সমস্ত বর্ণনা রয়েছে উত্তরমেঘে। যেমন – ধনকুবেরের গৃহ, ললিতবনিতাদের সাজসজ্জা প্রভৃতি। যক্ষের দ্বিতীয় প্রাণপ্রতিমার করুণ বর্ণনা পাঠক হৃদয়ে এক ব্যাকুল অনুভূতির সৃষ্টি করে। যেমন-একটি শ্লোকে বর্ণনা পাই, যক্ষ বলছে-হে সৌম্য মেঘ, তুমি দেখবে, আমার প্রিয়া মলিনবসনে কোলে বীণা রেখে আমার নাম দিয়ে রচিত গানটি গাইতে চলেছে, আর তখনই চোখের জলে বীণার তার ভিজে যাচ্ছে। সে কেনোরকমে তা মুছে ঠিক করে নিচ্ছে। কিন্তু বারেবারেই নিজের মূর্ছনা নিজেই ভুলে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়তার জন্য ‘মেঘদূত’-এর বহু টীকা ও বহু সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। মল্লিনাথ, বল্লভদেব প্রমুখ টীকাকারগণ এর টীকা লিখেছেন। ‘মেঘদূত’ সংস্কৃত সাহিত্যে এক বিশিষ্ট কাব্যশ্রেণির জন্ম দিয়েছে, সেটি হল দূতকাব্য। ‘মেঘদূত’-এর অনুকরণে ‘হংসদূত’, ‘পবনদূত’ প্রভৃতি বহু দূতকাব্য লেখা হয়েছে।

 কবি কালিদাস যে বিষয় নিয়ে ‘মেঘদূত’ রচনা করেছেন, তাতে মানবমনের চিরন্তন বিরহব্যথা ধ্বনিত হয়েছে। একারণেই বোধহয় ‘মেঘদূত’ এত মর্মস্পর্শী হয়ে উঠেছে এবং এর আবেদন আজও অম্লান রয়ে গেছে।

একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত সাজেশন 2026 বৈদিক সাহিত্যের ইতিহাস থেকে

(পূর্ণমান-4)

প্রশ্নঃ টীকা লেখো – শতপথ ব্রাহ্মণ

উত্তরঃ– শতপথ ব্রাহ্মণ শুরু যজুর্বেদের একমাত্র ব্রাহ্মণ গ্রন্থ। বিষয়গৌরবে এবং গ্রন্থকলেবরে এই ব্রাহ্মণটি সমগ্র ব্রাহ্মণসাহিত্যের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। কাথ এবং মাধ্যন্দিন ভেদে শতপথ ব্রাহ্মণ দুটি শাখায় বিভক্ত। মাধ্যন্দিন শাখায় এতে ১০০টি অধ্যায় আছে। আবার, গ্রন্থটি ১৪টি কাণ্ডে বিভক্ত। এই গ্রন্থে দর্শপূর্ণমাস যাগ, অগ্নিহোত্র, চাতুর্মাস্য যাগ, সোমযাগ, রাজসূয় যাগ, অশ্বমেধ যজ্ঞ ইত্যাদি নানারকম শ্রৌত যজ্ঞানুষ্ঠানের বিস্তৃত বিবরণ আছে। এই গ্রন্থটি প্রাচীন ভারতের রাজধর্ম, রাজ্যাভিষেক পদ্ধতি, রাজার সঙ্গে প্রজার সম্পর্ক, রাজকীয় ক্ষমতার ক্রমবিন্যাস প্রভৃতি রাজনৈতিক তথ্যের মূল্যবান আকররূপে সমাদৃত।

প্রশ্নঃ নিরুক্ত বেদাঙ্গের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। / অথবা, টীকা লেখো – নিরুক্ত।

উত্তরঃ– বৈদিক মন্ত্রের বিভিন্ন পদের অর্থজ্ঞানের জন্য যে শাস্ত্রে নিরপেক্ষভাবে বৈদিক পদগুলির অন্তর্ভূত তত্ত্বগুলিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেই শাস্ত্রকে বলে নিরুক্ত। বৈদিক ঋষিরা কোন মন্ত্রে কী অর্থে কোন শব্দ প্রয়োগ করেছেন তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নিরুক্ত গ্রন্থে। দুরূহ বৈদিক শব্দগুলির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং তাদের প্রযোগ নির্দেশই নিরুক্তের মূল বিষয়। আচার্য যাস্ক প্রণীত ‘নিরুক্ত’ গ্রন্থ এ বিষয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থ। যাস্কের ‘নিরুক্ত’ গ্রন্থে শাকপুনি, ঔর্ণবাভপ্রভৃতি প্রাচীন নিরুক্তকারগণের কিছু কিছু মত পাওয়া গেলেও তাঁদের নিরুক্ত গ্রন্থ লুপ্ত হয়ে গেছে।

যাস্ক রচিত নিরুক্ত গ্রন্থের তিনটি ভাগ আর এই তিনটি ভাগে মোট অধ্যায় আছে 12 টি। তিনটি ভাগ হল-নৈঘটুক কান্ড, নৈগমকাণ্ড এবং দৈবতকাও। নৈঘণ্টক কাণ্ডে আছে সমানার্থক শব্দের উপদেশ, নৈগমকাণ্ডে আছে বেদে প্রযুক্ত শব্দের উৎপত্তি ও অর্থ দৃষ্টান্তসহ ব্যাখ্যা। অনেক ক্ষেত্রে বৈদিক মন্ত্রও এখানে ব্যাখ্যাত হয়েছে। আর, দৈবতকাণ্ডে আছে দেবতাতত্বের বিস্তৃত বিচার। এই কান্ডে ভূলোক, অন্তরীক্ষলোক ও দ্যুলোক ভেদে দেবতাদের তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে যাস্ক দেবতাদের নিবাসস্থান, লক্ষণ, কার্য এবং রূপের বর্ণনা দিয়েছেন।

আরোও পড়ুন

Leave a Comment